মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে মানসিক অসুস্থতার ‘স্পষ্ট লক্ষণ’ দেখা দিয়েছে বলে সতর্ক করেছেন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। লক্ষণগুলোর মধ্যে ম্যালিগন্যান্ট নার্সিসিজম বা ‘মারাত্মক পর্যায়ের আত্মপ্রেম’ একটি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে প্রচারণা চলার সময় ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন দাবি করেছিলেন, ট্রাম্প রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার জন্য ‘মেজাজগতভাবে যোগ্য’ নন। হিলারির এই কথাটি সেই সময় বেশ খ্যাতি পেয়েছিল।
ওই সময় অনেকেই ভেবেছিলেন, হিলারি হয় রসিকতা করছেন, নয়তো ট্রাম্পকে ছোট করার জন্য সস্তা রাজনৈতিক খেলা খেলছেন। তবে ক্ষমতা গ্রহণ থেকে শুরু করে দিন দশেক ধরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড দেখে অনেকের মনেই সন্দেহ জাগছে – হিলারি সত্যি বলেননি তো?
মনোবিদরাও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এমনকি ‘সিটিজেন থেরাপিস্টস এগেইনস্ট ট্রাম্পিজম’ নামে একটি সংঘও গঠন করা হয়েছে, যার সদস্য সংখ্যা কয়েক হাজার। সংঘটি ট্রাম্পের মানসিক রোগের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করে পুস্তিকাও প্রকাশ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে মানসিক অসুস্থতার যে লক্ষণগুলো দেখা যাচ্ছে তার মধ্যে প্রধানগুলো হলো:
- অভিবাসী এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ যে গোষ্ঠীকে হুমকি মনে হচ্ছে তাদেরকেই ফাঁসিয়ে দেয়া বা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা
- বিরোধী বা প্রতিদ্বন্দ্বী এবং সমালোচকদের ছোট করা, উপহাস করা এবং অপমান করা
- নিজেকে ভয় এবং ক্রোধের প্রতিভূ একজন ‘শক্তিশালী পুরুষ’ হিসেবে দেখিয়ে একটি বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করা
- তাকে শুধু বিশ্বাস করলেই সবার সব সমস্যার সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দেয়া
- ইতিহাস বিকৃত করা এবং সত্য ও যৌক্তিক আলোচনার ধার না ধারা।

সিটিজেন থেরাপিস্টস সংঘটি মনে করে, ট্রাম্পের অহংবোধ থেকে জনগণের মাঝে এমন একটি বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে যে, প্রকৃত আমেরিকানরা শুধু তখনই জয়ী হতে পারবে যদি বাকিরা হেরে যায়।
শুধু তাই নয়, সাইকোথেরাপিস্ট জন ডি গার্টনার ইউএস নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প মানসিক সমস্যা বিপজ্জনক পর্যায়ে রয়েছে এবং তার মেজাজ ও মানসিক অবস্থা প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য নয়।
তার বিশ্বাস, ট্রাম্পের মধ্যে ‘মারাত্মক পর্যায়ের আত্মপ্রেম’ নামক মানসিক রোগ রয়েছে। ক্লিনিক্যাল ভাষায় এটি সাধারণ আত্মপ্রেম, সমাজবিরোধী ব্যক্তিত্ব জনিত ব্যধি, আগ্রাসী মনোভাব এবং ধর্ষকামের (অন্যকে যন্ত্রণা দিয়ে তৃপ্তি পাওয়ার মানসিক জটিলতা) সমন্বিত রূপ।

এর চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ড. জুলি ফুটরেল। নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজকে তিনি বলেন, “আত্মপ্রেম তার (ট্রাম্পের) বাস্তবতা অনুধাবনের ক্ষমতা নষ্ট করে দিয়েছে। তাই আপনি যুক্তি দেখিয়ে এমন একজন মানুষকে বোঝাতে পারবেন না। ৩০ লাখ নারী মিছিল করছে? তাতে তিনি এতটুকু নড়বেন না। উপদেষ্টারা বলছেন কোনো একটা নীতিগত সিদ্ধান্ত কাজ করছে না? তাতে তার কিছুই আসে যায় না।”
অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক মনোবিদ নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজকে বলেছেন, ট্রাম্প একজন মানসিক বিকারগ্রস্ত মানুষ, যিনি নিজেকে বাঁচানোর জন্য চারপাশে অহংকারের দেয়াল তোলেন এবং অন্যদের ধ্বংস করে দেন।
এর আগেও ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা নিয়ে বেশ কয়েকবার প্রশ্ন উঠেছে। তার সাবেক এক কর্মচারীও একবার দাবি করেছিলেন ট্রাম্পের মানসিক সমস্যা আছে। তবে এবারই মনোবিদ ও মানসিক স্বাস্থ্যবিদরা ব্যাপারটি গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ শুরু করলেন।










