মানবপাচার থেমে গেলেও নিস্তার পাচ্ছে না সেই ‘ভয়ংকর’ মানবপাচারকারীরা। তাদের বিরুদ্ধে সিআইডির অ্যাকশন অব্যাহত রয়েছে। এর অংশ হিসেবে পর্যটক সেজে ফাঁদ পেতে টেকনাফের ‘ভয়ংকর’ মানবপাচারকারী রফিককে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা থেকে আসা সিআইডির ‘ইক্যুনোমিক্যাল ক্রাইম স্কোয়াড’ একটি দল।
বুধবার বিকাল সাড়ে বিকালে টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের নয়াবাজার থেকে মানবপাচারকারী রফিককে গ্রেপ্তার করা হয়। রফিক সিআইডির ‘ইক্যুনোমিক্যাল ক্রাইম স্কোয়াড’ এর দায়ের করা মানবপাচার ও মানি লন্ডারিংয়ের একটি মামলার আসামি। সে সাবরাংয়ের কচুবনিয়া এলাকার মোঃ ছিদ্দিকের পুত্র।
অভিযানে অংশ নেয়া সিআইডির ‘ইক্যুনোমিক্যাল ক্রাইম স্কোয়াডের পরিদর্শক শহীদুল ইসলাম খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর ‘ইক্যুনোমিক্যাল ক্রাইম স্কোয়াডের উপ-পরিদর্শক তাপস বিশ্বাস বাদি হয়ে টেকনাফের পাচার সিন্ডিকেটের গডফাদার মোঃ ছিদ্দিককে প্রধান আসামি করে তার দুই পুত্র শফিক, রফিকসহ হামিদ নামে আরেক গডফাদারের নাম উল্লেখ করে ১০/১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি টেকনাফ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলা কয়েকজন তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত চালিয়ে এসেছেন। সর্বশেষ তদন্তভার পেয়েছেন পরিদর্শক শহীদুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, মামলাটির তদন্ত একটা পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। এই পর্যন্ত তদন্তে উঠে এসেছে হামিদ নামের একজন ও মোঃ ছিদ্দিকের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেটটি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোক এনে মালয়েশিয়ায় পাচার করত। তারা প্রথমে ওই লোকগুলোকে এনে ছিদ্দিকের আস্তানায় জমায়েত করতো। সেখান থেকে নৌকায় করে জাহাজে উঠিয়ে তাদের জিম্মি করতো। তারপর ফোনের মাধ্যমে জিম্মি লোকদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে মোটা টাকা আদায় করেছে। তবে ভয়ংকর তথ্য হচ্ছে, যারা টাকা দিতে পারত না তাদের অনেককে সাগরে নিক্ষেপ ও থাইল্যান্ডের গণকবরে পুঁতে ফেলা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা তদন্তে করে পেয়েছি ছিদ্দিকের পাঁচটি ব্যাংক একাউন্টে মানবপাচারের আড়াই কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। টাকাগুলো সব বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে কিছু বিষয় গোপন রেখে অভিযানে নেতৃত্বাদানকারী সিআইডির ‘ইক্যুনোমিক্যাল ক্রাইম স্কোয়াড’ সহকারী পুলিশ সুপার নাজিম উদ্দীন বলেন, হামিদ ও ছিদ্দিকের ১০/১২ সিন্ডিকেটটি মানবপাচারের বড় বড় সিন্ডিকেটগুলোর একটি। এরমধ্যে রয়েছে ছিদ্দিকের দুই পুত্র ও মেয়ে জামাই তালেবও। তালেবসহ সিন্ডিকেটের অধিকাংশই এখন মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছে। ইন্টারপোলের সহায়তা নিয়ে মালয়েশিায় তাদের ধরতে অভিযান চালানো হবে।







