মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দেয়া বুধবারের ভাষণের প্রসঙ্গে বলেছেন, তিনি বৈশ্বিক শৃঙ্খলা ওলটপালট করে দিচ্ছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করছেন। চীনের প্রেসিডেন্টকে তিরস্কার করে টিলারসন বলেছেন, তিনি একজন দায়িত্বহীন বিশ্বনেতা যিনি ‘আক্রমণাত্মক’ অর্থনৈতিক নীতিমালাই বেশি বেছে নেন।
ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এর অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে টিলারসন বলেন, ভারতের পাশাপাশি চীন বেড়ে উঠলেও ভারতের তুলনায় অনেক কম দায়িত্বশীলতা দেখিয়েছে। বিভিন্ন সময় দেশটি আন্তর্জাতিক আইন আইনভিত্তিক শৃঙ্খলাকে তুচ্ছজ্ঞান করেছে।
‘দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড সরাসরিই সেসব আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালাকে চ্যালেঞ্জ করে যেগুলোর ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত উভয়ই কাজ করে আসছে,’ বলেন টিলারসন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক চায়। কিন্তু দেশটি আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক বৈশ্বিক শৃঙ্খলার প্রতি চীনের চ্যালেঞ্জের সামনে মাথা নত করবে না। চীন তার প্রতিবেশী দেশসমূহের সার্বভৌমত্ব খর্ব করলে বা যুক্তরাষ্ট্র ও তার বন্ধু দেশগুলোর জন্য অসুবিধা সৃষ্টি করলে সেটাও মেনে নেবে না আমেরিকা।
বুধবার ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেসে জিনপিং বলেন, চীন একটি ‘নব যুগে’ প্রবেশ করেছে, যেখানে তার বিশ্বমঞ্চে কেন্দ্রীয় চরিত্র নেয়া উচিত। চীনা সমাজতন্ত্রের অধীনে তাদের দ্রুত অগ্রগতি অন্যান্য দেশকে নতুন পথের দিশা দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘চীন এখন বিশ্বের বড় শক্তি হয়ে উঠেছে এবং মানবজাতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কমিউনিস্ট শাসনের অধীনে প্রবৃদ্ধির চীনা মডেল বিকশিত হয়েছে এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশকে নতুন পথ দেখিয়েছে। এখন আমাদের জন্য বিশ্ব মঞ্চে কেন্দ্রীয় চরিত্র নেয়া এবং মানবজাতির জন্য বড় ভূমিকা রাখার সময়।’
এই সম্মেলনেই ঠিক হবে পরবর্তী মেয়াদে চীনের নেতৃত্ব কে দেবেন। ২০১২ সালে কমিউনিস্ট পার্টির নেতা হয়েছিলেন শি জিনপিং।








