ইতালিয়ান নাগরিক টাভেলা সিজারের তিন ‘হত্যাকারী’সহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করার কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা মোটর সাইকেলটিও উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে।
গ্রেফতার চারজনের মধ্যে তিনজন ‘সরাসরি কিলিং মিশনের সদস্য’ বলে ডিবি জানিয়েছে। তারা হলো ‘ভাগ্নে’ রাসেল, ‘চাকতি রাসেল’ ও ‘শ্যুটার’ রুবেল। তাদের সঙ্গে মোটর সাইকেলটির মালিক শরীফ নামে আরো একজনকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে নেদারল্যান্ডসের একটি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা কর্মকর্তা টাভেলা সিজারকে মোটরবাইকে আসা তিনজন গুলি করে হত্যা করে।
তবে গ্রেফতার চারজনের সঙ্গে আইএসের কোনো সম্পর্ক নেই বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের পর আইএস হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’ খবর দিলেও শুরু থেকেই এরকম সম্ভাবনা নাকচ করে আসছিলো পুলিশ এবং সরকার।
গ্রেফতার চারজনকে উদ্বৃত করে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক ‘বড়ভাই’র নির্দেশে সিজার টাভেলাকে হত্যা করা হয়। দেশে অস্থিরতা এবং গোলযোগ সৃষ্টি করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিলো বলে ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া জানিয়েছেন।
‘আমরা সেই তথাকথিত বড়ভাইকে চিহ্নিত করেছে। এখন নেপথ্যের ওই মূল ব্যক্তিটিকে খোঁজা হচ্ছে। তাকে গ্রেফতার করলেই আরো স্পষ্ট হবে কে কোন উদ্দেশে সুনির্দিষ্টভাবে বিদেশীকে হত্যার জন্য খুনিদের ভাড়া করেছিলো।’
ডিএমপি কমিশনার জানান, টাভেলা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা ‘পেশাদার খুনি’। ‘সুনির্দিষ্টভাবে টাভেলা তাদের টার্গেট ছিলেন না। তাদেরকে একজন বিদেশীকে হত্যার জন্য ভাড়া করা হয়েছিলো এবং তারা একজন বিদেশী হিসেবে টাভেলাকে হত্যা করে।’
রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ‘খুনিদের’কে গ্রেফতার করা হয়।
ঢাকার কূটনৈতিক পাড়া গুলশানে টাভেলা নিহত হওয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে রংপুরে জাপানী নাগরিক হোশি কুনিওকে একই কায়দায় হত্যা করা হয়।
এর আগে প্রথমে অস্ট্রেলিয়া এবং পরে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশ ভ্রমণের ব্যাপারে তাদের দেশের নাগরিকদের সতর্ক করে দেয়। কারণ হিসেবে তারা সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যে পশ্চিমা স্বার্থের উপর হামলার হুমকির কথা জানায়। এ কারণে বাংলাদেশ সফর অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেয় অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দল।
অার অস্ট্রেলিয়া দলের নিরাপত্তা প্রধানের ঢাকা সফরের সময়ই নিহত হন টাভেলা সিজার।







