দেশব্যাপী চলছে মাদক বিরোধী অভিযান। এর মধ্যেই টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে চিহ্নিত মাদকসেবী ও বিক্রেতা শিথিল তালুকদারের নির্মমতার শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে নাঈম নামের পাঁচ বছরের এক শিশু। শুক্রবার বিকেলে ইয়াবা ট্যাবলেট নষ্ট করার অভিযোগে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে মাদক বিক্রেতা শিথিল তালুকদার।
সরেজমিনে জানা যায়, ভূঞাপুর উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৩ কি.মি দূরে অবস্থিত ফলদা ইউনিয়নের মাইজবাড়ী গ্রাম। এই গ্রামের মৃত ময়নাল হক তালুকদারে ছেলে শিথিল তালুকদার। এলাকার চিহ্নিত মাদকসেবী ও বিক্রেতা। তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও রয়েছে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ। শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে বিপুল পরিমান মাদক নষ্টের অভিযোগে শিথিল তালুকদার নির্যাতন চালায় একই গ্রামের ওয়াসিমের পাঁচ বছরের শিশু নাঈমকে। এতে নাঈম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে শনিবার সকালে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে তার পরিবার।
নাঈমের বাবা ওয়াসিম বলেন, ‘শুক্রবার বিকেলে দোকানে যাওয়ার পথে কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশে অবস্থিত আম গাছের নিকট থেকে একটি পরিত্যক্ত সিগারেটের প্যাকেট কুড়িয়ে পেলে তা নিয়ে খেলতে খেলতে দোকানের দিকে যায়। এসময় সিগারেটের প্যাকেটে থাকা সবকিছু ছিঁড়ে নষ্ট করে ফেলে। পরে দোকান থেকে ফেরার পথে শিথিল ছেলেটিকে বাড়ীর পাশ থেকে ধরে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালায়। নাঈমকে মারধোর করার এক পর্যায়ে শিথিল উত্তেজিত অবস্থায় বলতে থাকে ‘‘তুই আমার এক হাজার মাল নষ্ট করেছিস। তোকে আজ মেরেই ফেরবো।’’ এই বলে কিল, ঘুষি, লাথি মারে এবং গলা টিপে ধরে পাশের কচু বাগানে ফেলে দেয়। গতকাল তাদের হুমকি ও ভয়ে ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি এবং মামলা করতে পারেনি নাঈমের বাবা ওয়াসিম।
শিশু নাঈমের মা বলেন, আমার ছোট শিশু। প্যাকেটে কি আছে না আছে সেটা কীভাবে বুঝবে? খেলার সময় প্যাকেট ছিঁড়ে ফেলেছে। প্যাকেটের ভিতর নাকি অনেক টাকার হেরোইন আর ইয়াবা বড়ি ছিল। আর তা নষ্ট করার জন্য তাকে মারধর ও নির্যাতন করেছে। অনেক ভয় পেয়েছে আমার ছেলে। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসীরা জানায়, শিথিল তালুকদার এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি। এক সময় সেনাবাহিনীতে চাকরি করত। শুনেছি বছরখানেক আগে তাকে সেনাবাহিনী থেকে মাদকসেবনের দায়ে চাকুরিচ্যুত করা হয়। এখন সে ইয়াবা সেবন ও ব্যবসা করছে।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে শিথিল তালুকদারে বাড়িতে গেলে তার মা বলেন, নির্যাতনের ঘটনা সত্য নয়। আমার ছেলে মাদকসেবী ঠিকই, তবে কোনদিনই মাদক বিক্রির সাথে জড়িত নয়। স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ এলাকার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতারা আমার ছেলেকে চক্রান্ত করে ফাঁসিয়ে দিয়েছে।
ভূঞাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. রাকিবা সুলতানা জানান, আমি যখন শিশুটিকে পাই তখন তার শরীরে অনেক জ্বর ছিলো। সে কথা বলা ও খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলো। ভয়ে শিশুটি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। তাকে শিশু ওয়ার্ডে ৩ নং বেডের ভর্তি করা হয়েছে। এখন সে কিছুটা ভাল। স্বাভাবিক হতে একটু সময় লাগবে।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুছ ছালাম মিয়া বলেন, সিগারেটের প্যাকেট ছেঁড়ার অভিযোগে শিশু নাঈমকে মারধরের অভিযোগ এনে তার বাবা বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







