শফিক রেহমান গ্রেফতার পরবর্তী সময়ে সজীব ওয়াজেদ জয়- ইমরান এইচ সরকার এবং ব্লগে ধর্ম নিয়ে লেখালেখি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক মন্তব্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি ফেসবুক স্ট্যাটাসে তুলে ধরেছেন সিলেট টুডে টোয়েন্টিফোরের সম্পাদক কবীর য়াহমাদ।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনাবলী নিয়ে কবীর লিখেছেন, সবাই ডানে ঝুঁকছে। শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, ইমরান এইচ সরকার- এদের সকলেই ডানে ঝুঁকে হাততালিটা কুঁড়িয়ে নিতে মরিয়া। কিছুদিন আগেও শফিক রেহমান যুদ্ধাপরাধের বিচারের সমালোচনা করে লিখেছেন, আজ তিনি যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে সোচ্চার দাবিদারদের কাছে এক মজলুম। গতকাল-আজও মাহমুদুর রহমান শত্রুগোত্রীয়, কিন্তু আগামীকাল কি তিনি সে পর্যায়ে থাকবেন অনেকের কাছে?
নাকি ভিন্নমত সহ্য করা হচ্ছে না এমন অভিযোগ তুলে মুক্তির দাবিও জানানো হবে? বিবৃতির সাথে ধারাবাহিক লেখালেখিও হবে। অদ্য শেখ হাসিনা ব্লগে লেখালেখি নিয়ে তাঁর বক্তব্য দিয়ে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রস্থল হাটহাজারির কেন্দ্রীয় হুজুরের প্রশংসাবাক্যে ভেসেছেন। এর আগে সজীব ওয়াজেদ অভিজিৎ রায়ের লেখালেখি নিয়ে বক্তব্য দিয়ে হেফাজতগোত্রীয় কিছু লোকের প্রশংসার পাশাপাশি অভিজিৎবিরোধীদের প্রশংসার বাণে ভেসেছিলেন। আর অদ্য ইমরান এইচ সরকার শফিক রেহমানের বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে ‘লাল গোলাপ’ শ্রেণির পছন্দের ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন। শফিক রেহমান ইস্যুতে ইমরান এইচ সরকারের বক্তব্য আমার কাছে মনে হয়েছে তনু হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে অতি-আবেগি হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারানো এক বক্তব্য। কী বলতে গিয়ে কী বলে ফেলার মত অবস্থা।
পরে এই বিতর্কে সজীব ওয়াজেদ জয় জড়িয়ে পড়ার কারণে ইমরান তার বক্তব্যের সমর্থনে আরও কিছু বলার সুযোগ পেয়েছেন, এবং এক শ্রেণির লোকের সমর্থনও পেয়ে গেছেন। এটা যতটা না ইমরানের বক্তব্যের যৌক্তিকতা নিয়ে, তারচেয়ে বেশি সজীব ওয়াজেদ জয় ও আওয়ামী লীগের বিরোধিতা থেকে উদ্ভূত।
সজীব ওয়াজেদ জয় এই ইস্যুতে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার পর তিনি যে লেবেলের বলে প্রচার করা হচ্ছে সেখানে দাঁড়িয়ে এসব বিষয়ে বিতর্কে জড়ানো, সহজ কথায় ফেসবুকে আনফ্রেণ্ড করে দেওয়ার মত বালখিল্য অনুরোধ/উপদেশ/নির্দেশ দেওয়া উচিত কিনা সেটা নিয়েও প্রশ্ন জাগে।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের উত্তরাধিকার মনে করা হচ্ছে তাঁকে, কিন্তু এ আনফ্রেণ্ড আবদার নিঃসন্দেহে তাঁকে বড় করে নি, বরং প্রশ্নবিদ্ধ করেছে! ব্লগ-ফেসবুকের প্রথম জামানায় কারও মতের সাথে অমিল হলে, তর্কাতর্কি হলে আলাদা পোস্ট দিয়ে তার গোষ্ঠী উদ্ধারের সে চল অনেকের মধ্যে ছিল সেটাই মনে করিয়ে দেয়। সজীব ওয়াজেদ জয় কিংবা তার ফেসবুক পেজের এডমিন(রা) সে পর্যায়ে এখনও আছেন কিনা সেটাও প্রশ্নসাপেক্ষ! বিতর্কের সংস্কৃতির নিজস্ব কোন পদ্ধতি আবিষ্কার করার বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা না থাকলে আওয়ামী লীগের হাছান মাহমুদদের অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব ভাবলে আখেরে দলেরই ক্ষতি!
শফিক রেহমানের গ্রেফতার নিয়ে আমার ব্যক্তিগত কোন বিরুদ্ধমত নেই। অভিযুক্ত কেউ গ্রেফতার হতে পারে, তবে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বাসায় ঢোকার যে অভিযোগ ওঠেছে সেটা অবশ্যই নিন্দনীয়, নিন্দা জানাই। কারণ এর মাধ্যমে প্রকৃত সাংবাদিকতার ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন পুলিশ প্রশাসন প্রমাণ করেছে তাদেরকে কেউ বিশ্বাস করে না। এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে প্রমাণ হবে এর দায় আসাদুজ্জামান খান নিজের ওপরেই নিতে চান। অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হবে, আদালতে বিচার হবে- এটাই নিয়ম। যদি রহিমুদ্দিনেরা গ্রেফতার হয় শফিক রেহমান নয় কেন?
প্রধানমন্ত্রীর পুত্রকে অপহরণের অভিযোগে শফিক রেহমান গ্রেফতার হয়েছেন, হতেই পারেন। অন্য বিচারগুলো হয় নি বলে এটা হবে কেন- এসব ভাবনা অপরিণত মস্তিষ্কপ্রসূত! দেশে এবং দেশের বাইরে থাকা অপরিণত মস্তিস্কের সকলের মস্তিষ্ক সুস্থ চিন্তায় পূর্ণ হোক- দর্শক হিসেবে এরচেয়ে বেশি চাওয়ার আপাত কিছু নেই!







