সোহাগী জাহান তনু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে জানানো হয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের গ্রেফতারের জন্য কোনো আন্দোলন বা বিক্ষোভের প্রয়োজন নেই। এটা পুলিশের পেশাগত ও নৈতিক দায়িত্ব।
মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়।
গত ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার ঝোপঝাড়ে তনুর রক্তমাখা বিকৃত লাশ পাওয়া যায়। অভিযোগ আছে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
স্পর্শকাতর এ মামলাটি মঙ্গলবার সিআইডিতে হস্তান্তর করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এরই মধ্যে সিআইডির একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোহাগী জাহান তনুর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের আসামি গ্রেফতার সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিবর্গের আন্দোলনের বিষয়টির প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর মানুষের ওই অনুভূতি ও দাবিকে যথাযথভাবে সম্মান করে। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে বিশেষজ্ঞ ইউনিট সিআইডিকে এই হত্যাকাণ্ডে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে জেলা পুলিশ এবং গোয়েন্দা পুলিশও কাজ করছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তনু হত্যাকাণ্ড প্রকাশ্যে ঘটেনি। তাই সুস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সাক্ষী সংগ্রহ করা সময় সাপেক্ষ বিষয়। নানা বস্তুগত সাক্ষ্য, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সাক্ষ্য সংগ্রহ করা, বিশ্লেষণ এবং মূল্যায়নের মাধ্যমে এ ধরনের ক্লুলেস অপরাধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়।
‘অনুমানের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করলে সে ক্ষেত্রে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তদন্ত ভুল হলে সবার কাছেই তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এমনকি প্রকৃত দায়ী ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গ সেই ভুলের দিকে আঙুল তুলে নানা সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন। এতে মামলাটির ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। সে জন্য সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত আসামি চিহ্নিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
‘তনু হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত আসামিকে চিহ্নিত করেই তাকে গ্রেপ্তার করার ব্যাপারে আমরা প্রত্যয়ী। তবে এটা অবশ্যই সময়সাপেক্ষ। 
আরও লক্ষণীয় যে, পুলিশকে বেশির ভাগ সময়ই কাজ করতে হয় আইন-কানুন ও বিধি-বিধানের মধ্যে থেকে। পুলিশের পেশাগত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাসংবলিত তদন্ত কর্মকর্তাদের এ ধরনের ক্লুলেস ও স্পর্শকাতর মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে যথেষ্ট সাফল্য আছে।’
‘ক্লুলেস মামলা তদন্ত করা সব সময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অত্র মামলার তদন্তের জন্য গঠিত দল এই মামলাটি উদ্ঘাটনে যথাযথ মনোযোগী এবং আন্তরিক।’
ভিক্টোরিয়া কলেজের এই ছাত্রী হত্যাকারী কেউ এক সপ্তাহেও শনাক্ত কিংবা গ্রেপ্তার না হওয়ায় সারাদেশে প্রতিবাদ চলছে।
কুমিল্লায় ধারাবাহিক কর্মসূচির পাশাপাশি ঢাকায় মঙ্গলবারও তিন ঘণ্টা শাহবাগে সড়ক অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। গণজাগরণ মঞ্চ আজ সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক ঘণ্টা ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আগামী রোববার সারাদেশে ছাত্র ধর্মঘট ডেকেছে।
তনু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদীদের আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অতিরিক্ত উপ মহাপুলিশ পরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “তবে রাস্তা-ঘাটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। পুলিশের অপরাধ দমন এবং উদঘাটনের পেশাগত দায়িত্বও বাধাগ্রস্ত হয়। “সেজন্য সকলের কাছে তনু হত্যাকাণ্ডের যথাযথ তদন্তের জন্য অনুকূল সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।”







