রাজধানীর কলাবাগানে মার্কিন সাহায্য সংস্থা ইউএসএইড’র কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু নাট্যকর্মী মাহবুব রাব্বী তনয় হত্যা রহস্য উদঘাটনের ক্ষেত্রে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। উদ্ধার করা মোবাইল ফোনসেট এবং নিহতদের নামে পাঠানো পার্সেলে পাওয়া গেছে হত্যাকারীদের আঙ্গুলের চিহ্ন (ফিঙ্গারপ্রিন্ট)।
গোয়েন্দা পুলিশ অাশা করছে, এ আঙ্গুলের ছাপ থেকেই প্রকৃত হত্যাকারীকে ধরা সম্ভব হবে। এরই মধ্যে তাকে সনাক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করছে গোয়েন্দা পুলিশ।
গত ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান
মজিনার প্রটোকল অফিসার জুলহাজ ও তনয়কে। হত্যা শেষে তারা ‘আল্লাহ হু আকবর’ ধ্বনি দিয়ে পালিয়ে যায়। তাদের বাধা দিতে গিয়ে আহত হন ওই বাড়ির দারোয়ান এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তা।
হত্যার পরের দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে দায় স্বীকার করে আল-কায়েদা ভারতীয় উপমহাদেশের (একিউআইএস) কথিত বাংলাদেশ শাখা ‘আনসার আল ইসলাম’।
গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার দিদার আহমেদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়েছে। এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন ৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও পাওয়া গেছে। অল্পদিনের মধ্যেই প্রকৃত খুনিদেরকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।
তবে মামলাটির অগ্রগতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে চাননি এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা।
ওই হত্যাকাণ্ডের পরের দিন নিহত জুলহাজ মান্নানের বড় ভাই মিনহাজ মান্নান কলাবাগান থানায় অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনের নামে মামলা করেন। আর পুলিশের এসআই শামীম আহমেদ অস্ত্র আইনে একই সংখ্যক ব্যক্তিকে আসামী করে আরেকটি মামলা করেন।
মামলা দুটির বিষয়ে গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আমরা একটা বিষয়ে বিশেষ নজর দিয়ে তদন্ত করছি। তাহলো-খুনিরা কেনো সহজ পথ রেখে বসতিপূর্ণ-ঘিঞ্জি এলাকা দিয়ে পালিয়ে গেলেন। এ থেকে ধারনা করছি আশেপাশে তাদের শেল্টার হোম থাকতে পারে।
মার্কিন দূতাবাসের সাবেক কর্মকর্তাকে হত্যার পর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। ওইদিন প্রধানমন্ত্রী কেরিকে জানান, এ ঘটনায় “কিছু ক্লু পাওয়া গেছে ”।
এর ঠিক আগেরদিনই ওই হত্যাকাণ্ডে আইএস-আল কায়েদার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট।
২৯ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, ‘আমরা ঠিক পথেই এগুচ্ছি, ৩ জনকে আমরা
সনাক্ত করেছি। আপনারও পত্র-পত্রিকায় দেখেছেন। এখন আর কিছু বলতে চাচ্ছি না,
কয়েকদিন পর আমরা সব জানাবো।’








