জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তিন প্রশ্নে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করার অনুমতি পেয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার করা লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন এ জে মোহাম্মদ আলী। সঙ্গে ছিলেন মাহবুবউদ্দিন খোকন ও রাগীব রউফ চৌধুরী। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
পরে খুরশীদ আলম খান জানান, চারটি প্রশ্নে জেরা চেয়ে তারা আবেদন জানিয়েছিলেন। আদালত পযবেক্ষণসহ সে আবেদনের নিষ্পত্তি করেছেন। তবে চারটি নয়, মামলার পরবর্তী নির্ধারিত দিনে তিনটি প্রশ্নে জেরা শেষ করতে হবে। আর কেস ডকেটের বিষয়ে আদালত বলেছেন, বিচারিক আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে খালেদার আইনজীবীরা তা দেখতে পারবেন।
ট্রাস্ট আইনের ২৩ ধারা অনুসারে ট্রাস্ট বোর্ডের কোনো সম্পত্তির অপব্যবহার হলে বোর্ড অব ট্রাস্টি দায়ী কি না, তদন্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ হলফ করে কী বলেছেন এবং ২০০৫ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে প্রত্যাহারের পর কীভাবে তিনি কার্যক্রম চালাচ্ছেন এই তিন প্রশ্নে খালেদার আইনজীবীরা তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করতে পারবেন।
আইন অনুযায়ী, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে খালেদার আইনজীবীরা মামলার নথি (কেস ডকেট) দেখতে পারবেন বলেও বলেছেন আপিল বিভাগ।
নিম্ন আদালতে তদন্ত কর্মকর্তাকে কয়েকটি প্রশ্ন নতুন করে জেরা ও মামলার কেস ডকেট দেখতে চেয়ে আবেদন করেছিলেন খালেদার আইনজীবীরা। ওই আদেশ নিম্ন আদালতে নাকচ হওয়ার পর তারা হাইকোর্টে আবেদন করেন। হাইকোর্টে এ আবেদন খারিজ করে দেন। এই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া পৃথক দুটি লিভ টু আপিল করেন। আপিল বিভাগ শুনানি শেষে আবেদন দুটি পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা দু’টি মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলছে রাজধানীর বকশিবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের অস্থায়ী আদালতে। গত ১৭ এপ্রিল বিচারিক আদালতে তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হাররু-অর রশিদের পুনরায় সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরার দু’টি পৃথক আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। শুনানি শেষে আবেদন দু’টি খারিজ করে দেন আদালত।
এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন খালেদা জিয়া। ওই আবেদনে মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশও চাওয়া হয়। গত ১৫ মে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের বেঞ্চ শুনানি নিয়ে আবেদন দু’টি খারিজ করে দেন।এর পর গত ৩১ মে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন খালেদার আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী।
১৬ জুন চেম্বার বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দারের আদালত আপিলের অনুমতি দিয়ে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। বিচারিক আদালতে আগামী ০৬ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৩৪২ ধারায় খালেদার আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ধার্য রয়েছে। ওইদিন খালেদা জিয়াকে হাজির থাকতে ও হাজিরা নিশ্চিত করতে তার আইনজীবীদের নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। অন্যদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাক্ষীদের জেরা ও পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর।







