স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশ ও নেপালের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কাছে সুপারিশ করেছে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ইকোসকের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সুপারিশ গৃহীত হয়। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) সদস্য রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধ সাধারণ পরিষদে বিবেচনার জন্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ।
বৈঠকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বাংলাদেশ ও নেপালের পক্ষে প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এলডিসি থেকে মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত প্রস্তুতিকাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
এর আগে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) উভয় দেশের আবেদন পর্যালোচনা করে মত দেয় যে, বাংলাদেশ ও নেপালের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর প্রস্তাব সাধারণ পরিষদে বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা উচিত। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই ইকোসক বিষয়টি সাধারণ পরিষদের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইকোসকের সুপারিশ অনুযায়ী, আগামী ২৪ নভেম্বর ২০২৬ এর আগে সাধারণ পরিষদ এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। বর্তমানে ওই তারিখেই বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরণের সময় নির্ধারিত রয়েছে। সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার পর রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এলডিসি থেকে বাংলাদেশের টেকসই উত্তরণের লক্ষ্যে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, সাধারণ পরিষদ যদি প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করে, তবে বাংলাদেশ এলডিসি-উত্তর পর্বের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং অর্থনৈতিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে সক্ষম হবে।







