ফেসবুক আজ যেন শুধু সামাজিক যোগাযোগ নয় যেন সবকিছুরই মাধ্যম। সেখানেই চলে নানান কথার আলোচনা সমালোচনা, সেখানেই বেরিয়ে আসে মানুষের নানান দিক। এবার এসব নিয়েই স্যাটায়ার করে ফেসবুকে পোস্ট দিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন।
নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লিখেন, বাংলাদেশীয় ফেসবুকে জিহাদীদের যে ‘ছ্যাড়াব্যাড়া’, তা তারা চেয়েছিল বলে আমার মনে হয় না।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্যমতে এর আগে যারা ‘টুকটাক একটা/দুটো মানুষ হত্যা করে যাচ্ছিল,’ তারা ছিল অচেনা আততায়ী। যারা ধরা পড়েনা কিংবা যাদের ধরা যায় না, শুধু হত্যার চিহ্ন পাওয়া যায়, তারা অনেক বেশি ভয়ঙ্কর।
এরপরে তিনি আরো লিখেন, কিন্তু দক্ষ ফটোগ্রাফারের তোলা উত্তেজনায় ডোজড হাস্যমুখর তরুণ হত্যাকারীদের এমনই চেনা লাগছে ফেসবুকারদের যে, তাদের ঘৃণা করতেও পারছেন না কেউ কেউ। এমনই বিজ্ঞাপনী মুখচ্ছবি যে, ক্রাশ খাওয়া যায়। [“ক্র্যাশ খায়” শুনে আমি প্রথমে ভাবতাম এই নামের পানীয়ই খাওয়া হচ্ছে।] হত্যা এমনই হেলা-ফেলা ছেলে-খেলা যে, শিশুরাও বানিয়ে তুলেছে জঙ্গী-জঙ্গী খেলা, সেটিও ফেসবুকেই দেখলাম।
সাম্প্রতিক ভয় দেখানি ভুতুড়ে ভিডিওকে কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যবচ্ছেদ করা হলো। হুমকি দাতাদের ঠিকুজি কুষ্ঠি বের হলো। ক্লোজআপ ওয়ানে গান গেয়ে যার কিনা শান্তিনিকেতনে পাঠ নিয়ে ‘গরু তুই সর, নয়তো ফুল ছুঁড়ে মারব’ বলার কথা, সে কঠিন সুরে কথা বলছে কেন, তা মেনে নিতে পারছেন না অনেকে। খ্যাতনামা সাবেক স্ত্রীর পরিচয়ে পরিচিত করা হচ্ছে আরেকজনকে। তা নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা।
সবশেষে গীতি আরা নাসরিন লিখেন, মনে হচ্ছে জিহাদীরা ভিডিও গেমের ফ্রেম থেকে এখনও ফেসবুকারদের কাছে বের হতে পারেনি।
বাংলাদেশে সমাজের ঘি-মাখন খাইয়ে অংশটি এমনিতে খুব বড় নয়। জিহাদী হলেও চিনে ফেলা যায় তাদের। এরসাথে আছে আমজনতার সর্ববিষয়ে অফুরন্ত ফাজলামির ক্ষমতা। দুই মিলিয়ে জিহাদের মতো একটি ‘সিরিয়াস’ বিষয়ের promo ফেসবুকে কীভাবে হয়, বাংলার ‘কেদো-প্যাঁকে’ও মরুর দেশের মতো একই থাকে কিনা, দেখবার ব্যাপার।







