দীর্ঘ ৭৭ দিন কারাভোগের পর অন্তবর্তী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের রসরাজ দাস।
মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার থেকে ছাড়া পান তিনি। কারামুক্ত হয়ে স্বজনদের সঙ্গে বাড়ির পথে রওনা হন রসরাজ।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রসরাজের জামিন সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জেলা কারাগারে এসে পৌঁছায়।
সোমবার সকালে রসরাজ দাসের জামিন শুনানি হয় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে। শুনানি শেষে বেলা ১১টার দিকে বিচারক মো. ইসমাঈল হোসেন পুলিশের পরবর্তী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করা পর্যন্ত রসরাজের জামিন মঞ্জুর করেন।
গত বছরের ২৯ অক্টোবর রসরাজের ফেসবুক আইডি থেকে পবিত্র কাবা শরীফকে ব্যঙ্গ করে ছবি পোস্ট করার মিথ্যা অভিযোগ এনে ওইদিন নাসিরনগর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাওছার হোসেন বাদী হয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে (আইসিটি) একটি মামলা দায়ের করেন। পরদিন ৩০ অক্টোবর ওই মামলায় রসরাজকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ।
ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদিন পর তার প্রতিবাদে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত ও খাঁটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত নামের দুটি সংগঠন সমাবেশ করে। সেই সমাবেশ চলাকালে সদরের হিন্দুপাড়াগুলোতে ব্যাপক হামলা ও লুটপাট চালানো হয়। হামলাকারীরা বেশ কয়েকটি মন্দিরে প্রতীমাও ভাঙচুর করে।
এরপর দুই দফায় আরো কয়েকটি হিন্দু বাড়ি ও মন্দিরে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে।
ওই ঘটনায় একটি মন্দিরের পুরোহিত বাদী হয়ে আড়াই হাজার জনকে আসামী করে দুটি মামলা ও পুলিশ বাদী হয়ে তিনশ জনকে আসামী করে আরো দুটি মামলা দায়ের করে।








