জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারসহ ৮ দফা দাবি আদায়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চের ব্যানারে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।
গতকাল এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষার্থীদের মামলা প্রত্যাহারে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করার প্রেক্ষিতে আট দফা দাবি পূরণে মানববন্ধন পালন করেন তারা। গতকাল দুপুরে সিন্ডিকেট সভার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দাবিগুলো ঘোষণা করেন।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো- অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা সকল মামলা প্রত্যাহার, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের বিচার, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় প্রক্টরের জবাবদিহিতা, অপরাধী চালককে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা, নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্থায়ী স্পিডব্রেকার ও ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, এমএইচ গেট থেকে বিশমাইল পর্যন্ত মহাসড়কে বাইপাস নির্মাণ ও গতিসীমা তদারকি পুলিশের চেকপোস্ট বসানো।
মানববন্ধনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চের আহবায়ক অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন দাবিগুলো তুলে ধরে বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ন্যায্য দাবিতে আমরা সবাই একসাথে থাকতে চাই। আমাদের দাবিগুলো না আদায় হওয়া পর্যন্ত আমরা অনড় থাকবো।’
শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘কেন পুলিশ বাহিনী সেদিন কোন প্রকার হুশিয়ারী না দিয়ে নিরস্ত্র ও নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালিয়েছিলো। এর জবাব সরকারের কাছে চাই। প্রশাসন যদি সেদিন হুকুম না দিতো এমনটি হওয়ার কথা ছিলো না।’ এসময় এ ঘটনার সঠিক তদন্তের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অবিলম্বে দাবিগুলো মানা না হলে পরর্তীতে আরো কঠোর আন্দোলন ও কর্মসূচি পালন করবে বলে মানববন্ধন থেকে হুশিয়ারি দেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ মে সড়ক দুর্ঘটনায় জাবির দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ২৭ মে রাতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও শিক্ষকদের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে এক জরুরি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণাসহ ২৮ মে সকাল ১০টার আগে আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৮ মে থেকে সবগুলো আবাসিক হল বন্ধ রয়েছে। গতকাল (শনিবার) দুপুরে অনুষ্ঠিত এক সিন্ডিকেট সভায় অনির্দিষ্টকাল বন্ধ ঘোষণা প্রত্যাহার করে আগামী ৮ জুন (বৃহস্পতিবার) সকল আবাসিক হল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। তবে সকল প্রকার ক্লাস ও পরীক্ষা শুরু হবে ঈদের ছুটির পর ৯ জুলাই থেকে।






