জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পৃথক দুটি মারধর ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত ৫ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সোমবার (২৬ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন।
বহিষ্কারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেন, “জরুরি ডিসিপ্লিনারি বোর্ড এবং পরে সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় সাংবাদিক ও এক ছাত্রীকে লাঞ্ছনা ও গতকালের (রবিবার) ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীকে আজীবন ও দুই শিক্ষার্থীকে দুই বছর বহিষ্কার করা হয়েছে। কেউ অন্যায় করলে তাকে ছাড় দেয়া হবে না।”
আজীবন বহিষ্কৃত তিন শিক্ষার্থী হলেন- লোক প্রশাসন বিভাগের ৪৭তম আবর্তনের ইয়া রাফিউ শিকদার, মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও সোহেল রানা। তারা তিনজন এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত চ্যানেল আই প্রতিনিধি মাহমুদুল হক সোহাগ এর ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিংপুল এলাকায় ছিনতায়ের সময় বাধা দিলে সেখানে কর্মরত সাংবাদিক মাহমুদুল হক সোহাগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক ছাত্রীকে মারধর করে তারা।
অন্যদিকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কৃত অপর দুই শিক্ষার্থী হলেন- বাংলা বিভাগের ৪৭তম আবর্তনের আসিফ আহমেদ ও সজিব গাজী।
বহিষ্কৃতদের সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭তম আবর্তন ও শহীদ রফিক জব্বার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তারা সবাই ছিনতাইয়ের সময় নিজেদেরকে নিজেদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানার অনুসারী বলে দাবি করেন জানা গেছে।
তবে আটককৃতরা ছাত্রলীগের কেউ নয় বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগ সভাপতি মো. জুয়েল রানা। আটককৃতদের ব্যাপারে তিনি বলেন, “ছিনতাইয়ের সময় আমি নিজে তাদেরকে ধরে প্রক্টরিয়াল বডির হাতে তুলে দিয়েছি। তারা কোনভাবে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলে বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রসঙ্গত, গত ২৬ নভেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপ্তাহিক কোর্স আইবিএ- এর শিক্ষার্থী জাহেদুর রহমান অর্ণব ও তার বান্ধবী রোকইয়া হামিদ সেতু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘুরতে যায়। দুপুর দেড়টার দিকে বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকায় ঘুরতে গেলে সেখানে তারা অভিযুক্ত পাঁচ শিক্ষার্থী দ্বারা মারধর ও ছিনতাইয়ের শিকার হন।
ছিনতাইয়ের সময় ওই পাঁচ শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানালে তাদেরকে আটক করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখানে ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। ঘটনার শিকার জাহেদুর রহমান বিচার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।







