যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নতুন নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম দেশবাসীর মধ্যে নতুন করে আশা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দলীয় নেতৃত্ব গ্রহণের পর প্রথম ভাষণে তিনি বলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ (আমার একটি পরিকল্পনা আছে)। যদিও ওই পরিকল্পনার বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।
এএফপি ও দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যমতে, দলীয় আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর সোমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে বার্নহামের। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে নতুন নির্বাচন ছাড়াই দলীয় নেতা হিসেবে তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন।
লন্ডনে আয়োজিত বিশেষ দলীয় সম্মেলনে বার্নহাম বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এমন রাজনীতির অপেক্ষায় রয়েছে, যা তাদের আবারও আশার আলো দেখাবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, তার নেতৃত্বে বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য, দোষারোপের বদলে সমস্যা সমাধানের রাজনীতিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
ভাষণে যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী শিল্পাঞ্চলের সংকটের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন তিনি। ইস্পাত কারখানা, কয়লাখনি ও জাহাজশিল্পের পতনের কথা উল্লেখ করে বার্নহাম বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলিত অঞ্চলগুলোকে আবারও উন্নয়নের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা হবে। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ (ডেভল্যুশন) এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় প্রশাসনের ক্ষমতা বাড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
পানি, আবাসন ও গণপরিবহনের মতো মৌলিক সেবাকে আরও সাশ্রয়ী করার প্রতিশ্রুতিও দেন বার্নহাম। তিনি জানান, এসব খাতে রাষ্ট্রের ভূমিকা আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি জনগণের হাতে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকারও করেন তিনি। তবে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান লেবার নেতা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা আগে এমন মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর লেবার পার্টির নেতৃত্বে আসেন বার্নহাম। দলটির ৪০৩ জন এমপির মধ্যে ৩৭৯ জনের সমর্থন পাওয়ায় নেতৃত্বের দৌড়ে কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন তিনি। গ্রেটার ম্যানচেস্টরের তিনবারের নির্বাচিত মেয়র বার্নহাম ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামেও পরিচিত।
২০১০ ও ২০১৫ সালে ব্যর্থ হওয়ার পর তৃতীয় প্রচেষ্টায় তিনি লেবার পার্টির নেতৃত্ব লাভ করেন। ২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বার্নহাম সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাধারণ মানুষের নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।







