জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রশাসনিক ভবন অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একাংশ। ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ ব্যানারে সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়।
প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী চলমান কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিভাগের অর্ধশতাধিক শিক্ষক অংশ নেন। উপাচার্য ও তার কাছের শিক্ষক কর্তৃক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি প্রদানের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা জানান, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদানকারীদের বিচার ও উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন না দেওয়ার আগ পর্যন্ত আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে।
অবরোধে অংশগ্রহণকারী সংগঠনের সহ-সভাপতি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ছয়জন শিক্ষকই সংগঠনের গঠনতন্ত্রের বিরুদ্ধে গিয়ে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। উপাচার্য ও তাঁর অনুসারী শিক্ষকরা বঙ্গবন্ধু হলের প্রাধ্যক্ষ, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিনসহ কয়েকজন শিক্ষককে ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দিয়েছে। রাজনৈতিক স্বার্থে তারা এসব কাজ করে যাচ্ছে। এ হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের প্রতিবাদে আমরা অবরোধ কর্মসূচি পালন করছি’।
অপরদিকে হুমকি প্রদানের বিষয়টি অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘আমি কোনোদিন কাউকে হুমকি দেই না, ভয় প্রদর্শনও করি না। আমি মনে করি আমার সম্পর্কে সম্পূর্ণ মিথ্যাচার করা হচ্ছে। এটি খুবই অন্যায় এবং আমি এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি’।
সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনের দুই রাস্তায় দাঁড়িয়ে শিক্ষকরা ভবন অবরোধ করেন। এ সময় প্রশাসনিক ভবনে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তবে প্রশাসনিক ভবনের তিনটি প্রবেশদ্বারে ব্যানার ঝুলানো থাকলেও কোন তালা লাগানো হয়নি। অবরোধ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম প্রশাসনিক ভবনের ভিতর তার কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন।
অবরোধ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও সিনেট সদস্য শরীফ এনামুল কবির, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ, কেন্দ্রীয় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অসিত বরণ পাল, গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদের ডিন অজিত কুমার মজুমদার, সিনেট সদস্য পরিসংখ্যান বিভাগের মোহাম্মদ আলমগীর কবির, মীর মোশাররফ হোসেন হলের প্রাধ্যক্ষ শফি মোহাম্মদ তারেক, শহীদ সালাম-বরকত হলের প্রাধ্যক্ষ কবিরুল বাশার, বেগম সুফিয়া কামাল হলের প্রাধ্যক্ষ এস এম বদিয়ার রহমান প্রমুখ। এছাড়াও সংগঠনটির প্রায় তিন শতাধিক সদস্যের মধ্যে বিভিন্ন বিভাগের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষক অংশ নেন।
উল্লেখ্য যে, উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন ঘোষণার দাবিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা দুভাগে বিভক্ত হয়ে পরেন। গত জানুয়ারি থেকে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরের নেতৃত্বে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একাংশ। অপরদিকে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের পক্ষে কাজ করে আসছেন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের আরেক অংশ। এর মধ্যে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ‘বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩ এর ১১(১) ধারা’ অনুযায়ী অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামকে দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য পদে নিয়োগ দেন। মূলত উপাচার্য পদকে কেন্দ্র করেই আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের মধ্যে এ বিভাজন।
এদিকে, গতকাল সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদক পদে থাকা দুই উপ-উপাচার্যের নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপনসহ নানা অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করে বতর্মান উপাচার্য ফারাজনা ইসলামপন্থী শিক্ষকদের একাংশ। তাদের অভিযোগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সংগঠনের ছয় নেতা-কর্মীকে কারণ দর্শনোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এর বিপরীতে অপরদিকে ড. শরীফ এনামুল কবিরের অনুসারী অপর পক্ষটি উপাচার্য ও তাঁর অনুসারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি প্রদানের অভিযোগ তুলে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন।







