জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দুই সাংবাদিকসহ আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী। আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আন্দোলনকারী কিছু বামদলের নেতাকর্মীও রয়েছেন।
এঘটনার শিকার হওয়ার পর সন্ধ্যা ৭টায় হামলার প্রতিবাদে বিচারের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ মিছিল শেষে তারা হামলাকারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিচারের দাবিতে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে যান।
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পরপরই সন্ধ্যা ৬টায় শিক্ষার্থীদের কোটা বাতিলের বার্তা নিয়ে অবরোধস্থলে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। তিনি কোটা সংস্কারের বিষয়ে জাতীয় সংসদে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে শিক্ষার্থীদের অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান।
আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে উপাচার্যের বক্তব্য দেয়াকালীন সময়ে হঠাৎ উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা হামলার ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের উপর ছাত্রলীগ কোনো হামলা করেনি। আমরা সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করছি।’
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা ৬টায় ভিসি অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলতে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তাঁর বক্তব্য চলাকালীন ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা ও সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চলের নেতৃত্বে দুই শতাধিক নেতাকর্মীর একটি মিছিল উপস্থিত হয়। মিছিল থেকে নেতাকর্মীরা অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিসোটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পরে। এতে শিক্ষার্থীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পরলে নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া করে এবং মারধর করে। তাদের বেধড়ক পিটুনিতে দুই সাংবাদিক সহ অন্তত ২০ শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। গুরুতর আহত ২ শিক্ষার্থীকে সাভার এনাম মেডিকেলে পাঠানো করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, এমন ঘটান আমি আশা করিনি। সারাদিন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শেষে বিশৃঙ্খলা কাম্য ছিল না। সবার সাথে কথা বলে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করব।
সন্ধ্যায় উপাচার্যের বক্তব্য চলাকালীন সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে এ হামলা অনাকাঙ্খিত। সম্মানিত উপাচার্যের উপস্থিতিতে অতর্কিত হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
এ ছাড়াও পরবর্তীতে আবাসিক হলসমূহে কোনরকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।







