বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। এই ঘটনায় জাড়িতদের দ্রুত আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে উপাচার্য বলেন: ‘এই হামলা মুক্তবুদ্ধি ও প্রগতিশীল চিন্তার চর্চাকে ব্যাহত করার একটি অপচেষ্টা। উপাচার্য অবিলম্বে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সকল প্রকার অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন: ‘কোনো অশুভ শক্তি শুভ শক্তিকে থামিয়ে দিতে পারবে না। সন্ত্রাস প্রতিরোধে রাষ্ট্রের পাশাপাশি জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশ ও জাতি অধ্যাপক জাফর ইকবালের সঙ্গে আছে।’
এসময় জাফর ইকবালের দ্রুত সুস্থতা কামনা এবং তার পরিবারের সদস্যদের সাহস ও ধৈর্য অটুট থাকুক- এই কামনা করেন তিনি।
অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ। ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি’র আয়োজনে বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম, প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমির হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. মঞ্জরুল হক’সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রভোস্ট, শিক্ষক- শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারিরা অংশগ্রহণ করেন।
অপরদিকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ। ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চ’ ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে শহীদ মিনার পাদদেশে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল পরবর্তী সমাবেশে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি মির্জা তাসলিমা সুলতানা’সহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।







