আজ জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস। দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আমাদের চলচ্চিত্রকে ভালোবাসুন, প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমা দেখুন’। এই স্লোগানকে সামনে নিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) আজ সোমবার সকালে উদ্বোধন হয়েছে দিবসটির প্রাথমিক পর্ব। এ পর্বে ছিল আগত অতিথিদের উদ্বোধনী আলোচনা, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দিবসের শুভসূচনাসহ চলচ্চিত্র কর্মীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য র্যালী। পঞ্চমবারের মতো তথ্যমন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নানা কর্মসূচি।
চলচ্চিত্র দিবসের উদ্বোধনী পর্বে অংশ নেওয়ার জন্য চলচ্চিকর্মীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে বিএফডিসি প্রাঙ্গণ। পুরো বিএফডিসি এলাকা নানা ব্যানার, ফেস্টুন আর রঙবেরঙের কাগজ দিয়ে সাজানো হয়েছে। আনা হয়েছে ব্যান্ডপার্টি। চলচ্চিত্রকর্মীদের গায়ে দিবসের বিশেষ টিশার্ট আর ক্যাপ। সবমিলিয়ে পুরো আয়োজনে সাজ-সজ্জার কমতি ছিল না।

সকাল ১০টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে অংশ নেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, তথ্যমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ, চলচ্চিত্র দিবসের আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান নায়করাজ রাজ্জাক ও সদস্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ, মহাসচিব বদিউল আলম খোকন, চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অমিত হাসান, প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু, পরিচালক শাহ আলম কিরণ, চিত্রনায়িকা অঞ্জনাসহ চলচ্চিত্রের সংশ্লিষ্ট আরও অনেকে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন কুমার ঘোষ। উপস্থাপনা করেন পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন বিএফডিসির। তাইতো আজকে আমরা এ জায়গায় চলচ্চিত্র দিবস পালন করতে পারছি। আমরা জঙ্গিবাদ বিরোধী একটি সুস্থ চলচ্চিত্রের পরিবেশ বজায় রাখব—এটাই হবে চলচ্চিত্র দিবসের শপথ।’
নায়করাজ রাজ্জাক বলেন, ‘দিবসের পাঁচ বছর পূর্তি হলেও বাংলা চলচ্চিত্রের ৬০ বছর পেড়িয়ে গেছে। চলচ্চিত্র সংগঠনগুলোর কাছে আমার একটাই প্রত্যাশা, চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগ ফিরিয়ে আনুন।’
সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চলচ্চিত্রের উন্নয়নে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তারই পথ ধরে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’
সুকুমার রঞ্জন ঘোষ বলেন, ‘চলচ্চিত্রের উন্নয়নের জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতেও উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যহত রাখবে।’
সভাপতির বক্তব্যে তপন কুমার ঘোষ চলচ্চিত্রের উন্নয়নে সবাইকে পাশে থাকার আহবান জানান।
আলোচনা পর্ব শেষে চলচ্চিত্র কমীদের অংশগ্রহণে বিএফডিসি থেকে র্যালি বের হয়। র্যালিটি বিএফডিসির গেট পেড়িয়ে হাতিরঝিল হয়ে সোনাগাঁ মোড় পর্যন্ত যায়। সেখান থেকে র্যালিটি আবার বিএফডিসিতে ফিরে আসে।
এর আগে আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণে তথ্যমন্ত্রী আকাশে পায়রা উড়িয়ে দেন এবং বেলুন উড়িয়ে চলচ্চিত্র দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
উদ্বোধনী আয়োজন ছাড়াও দিনব্যাপি থাকছে নানা আয়োজন।

বিকাল ৩টায় এফডিসির ৮ নম্বর ফ্লোরে থাকবে চলচ্চিত্রবিষয়ক বিশেষ সেমিনার। এছাড়া স্মরণিকা প্রকাশ, অতিথিদের লালগালিচা সংবর্ধনা, মেলা, স্থিরচিত্র প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র প্রদর্শনীসহ পুতুলনাচ, নাগরদোলা, বায়োস্কোপ, লাইভ টক শো, সংবর্ধনা ও বাংলাদেশের স্বনামধন্য তারকাদের নিয়ে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন থাকছে এবার।
‘বর্তমান পরিবেশন ও প্রদর্শন পদ্ধতিই আমাদের চলচ্চিত্রের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়’ শীর্ষক এক সেমিনারে তারা বক্তব্য রাখবেন। সেখানে প্রবন্ধকার হিসেবে থাকবেন তথ্য অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন এবং বিশেষ আলোচক র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। এছাড়া অন্য আলোচকদের মধ্যে থাকবেন পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজার, প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ। সেমিনারের সভাপতিত্ব করবেন এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন কুমার ঘোষ।
জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসের জাঁকজমকপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে বিকাল ৫টায় চলচ্চিত্রের সিনিয়র থেকে শুরু করে জুনিয়র শিল্পীরাও সাংস্কৃতিক পর্বে পারফর্ম করবেন। আরও থাকবে তিন মিনিটের লেজার শো। সাংস্কৃতিক পর্বটি উপস্থাপনা করবেন রিয়াজ, আমিন খান ও পূর্ণিমা।
২০১২ সাল থেকে প্রতি বছর ৩ এপ্রিলকে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস’ ঘোষণাসহ চলচ্চিত্রকে ‘শিল্প’ হিসেবে ঘোষণা করেছে বর্তমান সরকার।

ছবি : সাকিব উল ইসলাম








