চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের মাঝে লড়াইটা হল একপেশে। শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে জহুরুল ইসলাম অমির ব্যাটে মোহামেডানকে সহজেই হারিয়েছে আবাহনী। ২৪৯ রানের লক্ষ্য আকাশী-নীলরা টপকে যায় ৬ উইকেট ও ১৫ বল হাতে রেখে।
সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শুরু করা জহুরুল এদিন আউট হন ৯৬ করে। এ ওপেনার আবাহনীকে জয়ের খুব কাছে রেখে শাহাদাত হোসেন রাজিবের বলে বোল্ড হলে আরেকটি সেঞ্চুরি হাতছাড়ার আক্ষেপে পোড়েন। তার ১৩১ বলের ইনিংসে ছিল ১২টি চারের মার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: মোহামেডান-২৪৮/৭ (৫০ ওভার), আবাহনী-২৫৪/৪ (৪৭.৩ ওভার)
ওপেনিং জুটিতে সৌম্য সরকারকে নিয়ে জহুরুল যোগ করেন ১০৫ রান। ওই ভিত্তিই আবাহনীকে নিয়ে যায় জয়ের দিকে। ৫৪ বলে ৪৩ করে সৌম্য সাজঘরে ফেরেন শাহাদাতের বলেই, বোল্ড হয়ে। এ বাঁহাতি ওপেনার মারেন ৫টি চার ও একটি ছক্কা।
তিনে নামা আবাহনীর ভারতীয় রিক্রুট ওয়াসিম জাফর ৩৮ করে আউট হন শফিউল ইসলামের দারুণ এক ডেলিভারিতে, উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে। নাজমুল হোসেন শান্ত টিকে থাকতে পারেননি বেশিক্ষণ। শ্রীলঙ্কান বাঁহাতি স্পিনার চাতুরাঙা ডি সিলভার বলে হন এলবিডব্লিউ। এ বাঁহাতির ১৬ বলে ১৬ রানের ইনিংসে ছিল তিনটি বাউন্ডারি।
আবাহনীর অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ১৫ ও সাব্বির রহমান ২১ রানে অপরাজিত থেকে ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। আব্দুল মজিদের করা ইনিংসের ৪৮তম ওভারের তৃতীয় বলে লংঅন দিয়ে বিশাল এক ছক্কা মেরে খেলার শেষ টানেন সাব্বির।
সকালে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা মোহামেডানের শুরুটা মন্দ ছিল না। এবারের ঢাকা লিগে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা লিটন দাস ও আব্দুল মজিদ ওপেনিং জুটিতে তোলেন ৪০ রান। ৩৮ বলে চার বাউন্ডারিতে ২৭ করে লিটন আউট হলে ভাঙে ওপেনিং জুটি।
ধীরলয়ে ব্যাট করা অপর ওপেনার মজিদ আউট হন দলীয় ৮৭ রানের মাথায়। ৬৭ বল খেলে তিন বাউন্ডারিতে করেন ২৬ রান। সাদা-কালো শিবিরের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ইরফান শুক্কুরের ৫৭ ও অধিনায়ক রকিবুল হাসানের ৫১ রানে ভর মাঝারি পুঁজির দিকে আগায়।
শেষদিকে চতুরাঙার ২৪ বলে ৩২ ও সোহাগ গাজীর ২০ বলে ২৭ রানের ইনিংসে আড়াইশর কাছে যেতে পারে মোহামেডান। ছন্দ হারিয়ে ফেলা মোহাম্মদ আশরাফুল নামেন আট নম্বরে। এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান ৭ বলে ৪ রান করে থাকেন অপরাজিত।
চোট কাটিয়ে ফেরা ডানহাতি পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৯ ওভারে ৩১ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু ৯ ওভারে ২৯ রানে শিকার করেন ৩ উইকেট। অন্য উইকেটটি নেন মোসাদ্দেক। ৯ ওভারে ৫১ রান দিয়ে উইকেটের দেখা পাননি মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা।









