জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা ৪৮টি দেশের জন্য আরও বেশি তহবিল বরাদ্দের দাবিসহ কয়েকটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে থাকে রাখা, জলবায়ু তহবিলের কার্যকর বাস্তবায়নসহ কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে তিনি কপ২৬ সম্মেলনের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন আজ।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি শেখ হাসিনা এবারের জলবায়ু সম্মেলনে ঝুঁকির মুখে থাকা ৪৮ দেশের জোট ‘ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ)’ চেয়ারপার্সন হিসাবে দায়িত্বে আছেন।
সিভিএফের চেয়ারম্যান হিসেবে এক মতামতে শেখ হাসিনা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন রোধে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরও বেশি অর্থায়ন জরুরি। আমাদের জলবায়ু সংকট বিশ্বব্যাপী। যদিও তা সবাইকে সমানভাবে প্রভাবিত করছে না এখনও। তবে চারটি মহাদেশের ৪৭টি দেশ এক্ষেত্রে মারাত্মক হুমকির মুখে। এটি উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, ভানুয়াতু, মালদ্বীপ এবং মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের মতো ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রগুলি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে নিমজ্জিত হচ্ছে। বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ নিচু ব-দ্বীপ অঞ্চল, ১৬০ মিলিযনের বেশি মানুষের বসবাস রয়েছে যেখানে, তাদের খাদ্য সমস্যা, লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশের দ্বারা সুপেয় পানির সংকট, ভূমির অনুর্বরতা বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের চরম তাপমাত্রা, তীব্র খরা হুমকির মুখে ফেলেছে। এভাবে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা দ্বিগুণ উষ্ণ হচ্ছে এবং বসবাস অযোগ্য হয়ে উঠছে। এই অবস্থায় জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য জরুরি সহযোগিতা ও পদক্ষেপ বিলম্ব করা ক্ষতিকর।
শেখ হাসিনা বলেন, আইএমএফের মতে, আমাদের সবুজ অর্থনীতির জন্য আগামী দশকে ৬ ট্রিলিয়ন খেকে ১০ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা দরকার। ৪৮টি সিভিএফ সদস্য দেশ এখনো স্বল্পোন্নত, নিম্ন এবং মধ্য আয়ের-উন্নয়নশীল দেশ। তাদেরকে জলবায়ু প্রভাব মোকাবেলায় অভিযোজন কৌশল তৈরি করতে সহায়তা সহ তহবিল এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। বিজ্ঞানীরা এই বিষয়ে এরই মধ্যে সতর্ক করেছেন। তাপমাত্রা বৃদ্ধির মাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে আনতে ‘ন্যাশনালি ডিটারমিন্ড কনট্রিবিউশনস (এনডিসি)’ ঠিক করা, ১০০ বিলিয়ন ডলারের জলবায়ু তহবিলের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়াতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলছেন, বিশেষ করে শিল্পোন্নত দেশকে এক্ষেত্রে ভূমিকা নিতে হবে। কারণ ৮০ ভাগ কার্বন নিঃসরণ করে জি২০ দেশ। তারা যাতে জোরালোভাবে কাজ করে, এমিশনটা কমে। ২০১৫ সালে প্যারিস সম্মেলনে উন্নত দেশগুলো অঙ্গীকার করেছিল, জলবায়ু তহবিলে ২০২০ থেকে প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন ডলার অনুদান দেবে। আমরা চাই, এবার সেটির বাস্তবায়ন হবে।অভিযোজন ও প্রশমন দুই খাতে ৫০ শতাংশ করে এই তহবিলের অর্থ খরচের দাবি আগে থেকে জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ। একেবারে নিতান্ত কম। আমরা চাই যে, আমরা আরও কমাব। কমাতে গেলে, আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি অধিক পরিমাণে চাই। এই বিষয়ে আমরা মুজিব প্রসপ্যারিটি প্ল্যান নিয়েছি এবং এটা খুব এগ্রেসিভ প্ল্যান।
গ্লাসগোয় ৩১ অক্টোবর থেকে ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘের কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজের (কপ) ২৬তম আয়োজন।








