প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইসলাম সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সমর্থন করে না। মুষ্ঠিমেয় কয়েকজনের সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কার্যক্রমের জন্য ইসলামকে হেয় হতে দেয়া হবে না।
দেশব্যাপী জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী চেতনাকে আরো শাণিত করতে ধর্মীয় ও সামাজিক জনমত বাড়াতে আলেম উলামাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
‘ইসলামের দৃষ্টিতে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ এবং আমাদের করণীয়’ শীর্ষক উলামা সম্মেলন থেকে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ মোকাবিলার অঙ্গীকারের কথা বলেন শেখ হাসিনা।
সম্মেলনে লক্ষাধিক মুফতি আলেম এবং আইম্মার স্বাক্ষরসম্বলিত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী প্রকাশনা ‘মানব কল্যাণে শান্তির ফতওয়া’ প্রধানমন্ত্রী হাতে তুলে দেন শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ।
তিনি বলেন, ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা তুলে ধরে সেসব মতলব বাজদের আমাদের খতম করতে হবে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করতে পারে কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমি মনে করি আলেম সমাজের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। আজকে যে কথা আত্মঘাতীরা বলছে, এ পথে গেলেই নাকি শহীদ হয়ে যাবে, এটা কি ইসলামের পথ এটা জান্নাতের পথ। আত্মঘাতী হয়ে শহীদ হওয়া আমাদের রাসূল সমর্থন করেন নি। তারা সম্পূর্ণ জাহান্নামী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলাম শান্তি, সহমর্মিতা এবং সৌহার্দ্যর ধর্ম। কিছু সন্ত্রাসী মানুষ হত্যা করে পবিত্র ধর্ম ইসলামকে হেয় করার চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, সামান্য মুষ্ঠিমেয় লোকের জন্য সারা বিশ্বে যত মুসলমান আছেন সবাই কিন্তু প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন। সবাই কিন্তু আজকে হেয় হচ্ছেন।
আমাদের পবিত্র ধর্মকে মানুষের কাছে তারা হেয় করছে। কিন্তু কেন? তাহলে তারা ইসলামের কি শিক্ষা নিচ্ছে। যে ইসলাম ধর্ম সৃষ্টি হল মানবতার কথা বলে। আমাদের রাসূল সে শিক্ষা দিয়েছেন। এবং তিনি নিজেও সেটি করেছেন। যত বড়ই শত্রু বা অন্য ধর্মের হোক না কেন আশ্রয় চাইলে তিনি আশ্রয় দিতেন, সেবা করতেন। অহেতুক মানুষকে হয়রানি তিনি পছন্দ করতেন না।
কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ দেয়ার ক্ষেত্রে পাঠ্যক্রম ঠিক করতে আবারো কওমী মাদ্রাসার সাথে জড়িতদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু আরবি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে সেখানে কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা করলে তারা উচ্চ শিক্ষা পাবে, সনদ পাবে দেশে বিদেশে চাকুরির সুযোগ হবে। এ বিষয়ে যদি সবার একমত থাকে তাহলেই এ কাজটি আমরা শুরু করতে পারি।
সাধারণ মানুষের কাছে ইসলামের মূল বাণী পৌঁছে দিতে আলেম-উলামাদের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।







