চট্টগ্রামের এক বাসায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ ( জেএমবি) এর আস্তানা থেকে তিন সদস্যকে আটক করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে স্নাইপার রাইফেল, বিস্ফোরক, গুলি ও সেনাবাহিনীর পোশাক।
হাটহাজারি থানার আমান বাজার এলাকায় হাজী ইছহাক ম্যানসন নামের দুই তলা বাড়ির নিচতলায় শনিবার রাত দেড়টা থেকে রোববার ভোর ৬টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ।
এরপরই চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল জলিল মণ্ডল তার কার্যালয়ে হওয়া এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যে জঙ্গিরা ধরা পড়েছে তাদের কাছ থেকে আরো তথ্য পাওয়া যাবে, এবং আশা করছি খুব শিগগিরই সকল জঙ্গি ধরা পড়বে।
এ সময় জঙ্গিদের কাছে সেনাবাহিনীর পোশাক পাওয়া সম্পর্কে জলিল মণ্ডল বলেন, এ পোশাক গুলো বাইরে পাওয়া যায়, শুধু সেনাবাহিনীর নয় পুলিশের পোশাকও বাইরে বানানো যায়।
তিনি বলেন, দেশে এখন আইন করা প্রয়োজন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক, সেনাবাহিনীর পোশাক যেন অন্য কোন বেসরকারি সিকিউরিটি ফোর্স, কিংবা সিকিউরিটি গার্ড এজেন্সি ব্যবহার করতে না পারে। এটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন।
চট্টগ্রামে জেএমবির আস্তানা থেকে উদ্ধার করা বিপুল পরিমাণ বোমা সরঞ্জাম ও বিস্ফোরক দিয়ে কয়েকটি ভবন উড়িয়ে দেয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন সিএমপি পুলিশ কমিশনার।
উদ্ধার করা এমকে-১১ অত্যাধুনিক অস্ত্র, স্নাইপার রাইফেলসহ বেশ কিছু অত্যাধুনিক অস্ত্র সেনাবাহিনীর কাছেও নেই বলে জানান সিএমপি কমিশনার।
এই অভিযানের কারণে জেএমবির ভয়াবহ নাশকতার পরিকল্পনা নশ্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন সিএমপি কমিশনার।
গত ৫ই অক্টোবর কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণপাড়ে খোয়াজনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জেএমবির সদস্য সহ বিপুল পরিমাণ বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং অস্ত্র, গুলি উদ্ধার করা হয়।
তারই সূত্র ধরে গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে ৩ জেএমবি সদস্যকে আটক করে তাদের দেখানো মতে মধ্যরাতে হাটহাজারীর আমান বাজারে জেএমবির চট্টগ্রাম কমান্ডার ফারদিন ওরফে পিয়াসের বাসায় অভিযান চালানো হয়। তবে ফারদিনকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।






