ক্রিকেট

ছোটবেলার কোচদের প্রতি কৃতজ্ঞ রাজ্জাক-নাফীস

চারজন ব্যক্তি পুরস্কার গ্রহণ ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছে. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

চারজন ব্যক্তি পুরস্কার ও সম্মাননা গ্রহণের জন্য একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন, পেছনে শুভেচ্ছা বার্তা ও ছবি দেখা যাচ্ছে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

একজন জাতীয় নির্বাচক, আরেকজন ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের কর্মকর্তা। আব্দুর রাজ্জাক ও শাহরিয়ার নাফীসের নতুন পরিচয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) দায়িত্ব নেয়ায় খেলোয়াড়ি জীবনকে বিদায় বলতে হলো তাদের।

শনিবার শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টারের সামনে অস্থায়ী মঞ্চে দাঁড়িয়ে অবসরের ঘোষণা দিলেন।

খেলা ছাড়ার আনুষ্ঠানিকতায় উপস্থিতি ছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, নিবার্চক, বিসিবি পরিচালকরা। সবার সামনে আবেগ লুকিয়ে রাখতে পারেননি রাজ্জাক-নাফীস। দু’জনের চোখের কোণে এসেছে জল। বিদায়বেলায় ছোটবেলার কোচদের স্মরণ করতে ভুলেননি কেউ।

জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ তৈরি হচ্ছিল না। সেই হতাশা দূরে রেখে ঘরোয়া ক্রিকেট চালিয়ে যাচ্ছিলেন রাজ্জাক ও নাফীস। তবে মাঠ থেকে ক্রিকেটকে বিদায় বলার সুযোগ হলো না তাদের।

করোনাভাইরাসের কারণে ২০২০ সালের মার্চ থেকে বন্ধ ঘরোয়া ক্রিকেট। শুরু হতেও লাগবে আরও সময়। অপেক্ষা না করে নতুন দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন তারা। সঙ্গে সঙ্গে ক্রিকেট মাঠের অধ্যায়ও হলো অতীত।

বিদায়বেলায় রাজ্জাক স্মরণ করেছেন ছোটবেলার গুরু নাজমুল আবেদীন ফাহিম ও সারোয়ার ইমরানকে। আর নাফীস কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ওয়াহিদুল হক গনিকে। শুরুর কোচদের অবদানের কথাও তুলে ধরেছেন তারা।

মাত্র দশ বছর বয়সে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন বুঁনেছিলেন নাফীস। বাবা-মায়ের সমর্থন থাকায় পথটা খুব কঠিন হয়নি। ২০০৫ সালে খুলে যায় জাতীয় দলের দরজা। টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টুয়েন্টি মিলে খেলেন ১০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

বাংলাদেশের প্রথম টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক সব ধরণের ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন ২০১৩ সালের পর আর বাংলাদেশ দলে ঢুকতে না পারার আক্ষেপ নিয়েই। সব পেছনে ফেলে ৩৫ বছর বয়সী নাফীস তাকাতে চান সামনে। মাঠের বাইরে থেকে অবদান রাখাই লক্ষ্য সাবেক এ বাঁহাতি ওপেনারের।

বিদায়ের অনুভূতি জানাতে গিয়ে নাফীস বলেন: ‘একটু কঠিন। গতকাল থেকেই চিন্তাভাবনা করছিলাম। আমি খেলব না এটা তাতে খুব কষ্ট লাগছে না, তবে অনুভূতিটা অদ্ভুত। আমি একটা স্কুলে পড়লাম, স্কুল ছেড়ে দিচ্ছি- ওরকম অনুভূতি। খুবই অদ্ভুত। আমি সবসময় সব সিদ্ধান্ত ভেবেচিন্তে নিয়েছি, পরিস্কার করে। আমি চিন্তা করেছি যখন একজন খেলোয়াড় হিসেবে আর অবদান রাখতে পারব না, তবে সবসময় বলেছি আমি ক্রিকেটের সাথেই থাকব। আমার কাছে মনে হয়েছে এটাই সঠিক সময়। কারণ খেলে যতটুকু অবদান রাখতে পারব তারচেয়ে বেশি এখন পারব। এজন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়নি।’

বাংলাদেশি ক্রিকেটার ব্যাট হাতে উদযাপন করছেন. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ
ছবি: ক্রিকইনফো

‘আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা। আমি যদি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আরেকটু বেশি খেলতাম হয়ত পরিসংখ্যান আরও ভালো হত। কিন্তু পরিসংখ্যান দিয়ে তৃপ্তি বিচার করি না। বাংলাদেশের মানুষ ও মিডিয়ার যে ভালোবাসা পেয়েছি এর চেয়ে বেশি ভালোবাসা পাওয়া একজন খেলোয়াড়ের জন্য সম্ভব না। আমার ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো অতৃপ্তি নেই।’

প্রথম শ্রেনির ক্রিকেটে ৬৩৪ উইকেট শিকার করা রাজ্জাক দীর্ঘ বিরিতির পর জাতীয় দলে ডাক পেয়েছিলেন ২০১৮ সালে। চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টই তার শেষ ম্যাচ।

এরপর আর জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেননি। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে মুড়ি-মুড়কির মতো উইকেট নিয়েই যাচ্ছিলেন বাঁহাতি স্পিনের রাজা। তার ধারে কাছে ছিল না কোনো বোলার।

বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা মাঠে জয় উদযাপন করছে. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ
ছবি: ক্রিকইনফো

ওয়ানডে ক্রিকেটে ২০০ উইকেট ছোঁয়া ৩৮ বছর বয়সী রাজ্জাক বিদায়বেলায় মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেন: ‘গতকাল পর্যন্ত আমি বলতে পেরেছি আমি ক্রিকেট খেলোয়াড়, এখন থেকে বলতে হবে অন্যকিছু, যা আমার পেশা। হয়ত জিনিসটা সহজে বলতে পারছি তবে আমার জন্য এত সহজ না। ঘোরের মধ্যে আছি এখনো। ১৯৯৪ সাল থেকে ক্রিকেটের মধ্যে, তখন বিকেএসপিতে ভর্তি হয়েছি। সেই জিনিসটাকে বিদায় বলা… খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। একটা সময় আসলে প্রত্যেক মানুষকেই এক কাজ থেকে অন্য ভূমিকায় যেতে হয়। তারপরও আবেগ বলে যেহেতু একটা কথা আছে আমার মাঝে সেটা খুব কঠিনভাবে কাজ করছে। খুব ভালোভাবে কিছু বলা, গুছিয়ে বলা আমার জন্য একটু কঠিন।’

বিষয়:অবসরআব্দুর রাজ্জাকলিড স্পোর্টসশাহরিয়ার নাফীস
প্রতিবেদক

সাজ্জাদ খান

বাংলাদেশ ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ খবর, মানুষের গল্প এবং যাচাইকৃত তথ্য পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয় চ্যানেল আই অনলাইন।

আরও →

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…