চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম ব্যস্ততম এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে খুন হয়েছে কিশোর আদনান। এসময় আশপাশে অসংখ্য মানুষ থাকলেও তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি কেউ। এমনকি এগিয়ে আসেনি তার সহপাঠীরাও। চোখের সামনেই ঝরে যায় একটি তরতাজা প্রাণ।
আদনানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ তার পরিবার। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা আখতার আজমের মনে ঘুরে ফিরছে শুধু একটি কথাই ছেলের লাশ আমি বইতে পারবো তো?
পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রিকেট খেলতে পছন্দ করতো আদনান। দুরন্ত আদনানকে ২২ গজে আর কখনোই দেখা যাবেনা ব্যাট বল হাতে। আদনানের স্বজন ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের ধারণা, ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করেই ঘটেছে এ নির্মম ঘটনা।
হত্যাকারিদের ছুরির আঘাতে উঠে দাঁড়িয়ে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি তার। সেদিন স্কুলে না গিয়ে বাড়িতেই ছিল আদনান। স্কুলে গেলে হয়তো এভাবে মরতে হতো না তাকে।
আইডিয়াল স্কুলের সামনে হত্যা করা হয় আদনানকে। বাসা থেকে মাত্র কয়েক হাত দুরে আদনানের এমন করুণ পরিণতি কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা।
চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র আদনান প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল। ইচ্ছে ছিল প্রকৌশলি হবার।

মঙ্গলবার দুপুর দুইটার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর জামালখান মোড়ে খুন করা হয় কিশোর আদনানকে। জামালখান এলাকায় পরিবারের সাথে একটি বহুতল ভবনে থাকত আদনান। অাদনানকে যেভাবে খুন করা হয়েছে তা দেখে যে কারো মনে হতে পারে সেটি কোন সিনেমার দৃশ্য। কিছুক্ষণ পরই হয়তো সমাপ্তি ঘোষণা হবে সিনেমার। তবে সিনেমার সমাপ্তি না ঘটলেও সমাপ্ত হয়েছে আদনানের জীবন।
প্রতক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে কোতয়ালি থানার ওসি চ্যানেল অাই অনলাইনকে জানান: আদনানের বয়সী এবং তার থেকে কয়েক বছরের বড় প্রায় পাঁচ-ছয় জন যুবক মিলে ধাওয়া করে কিশোর আদনানকে। তাদের একজনের হাতে ছিল পিস্তল, আরেক জনের হাতে ছুরি। হত্যাকারিদের ধাওয়া খেয়ে হোঁচট খেয়ে রাস্তায় পড়ে যায় আদনান। এরপর হত্যকারিরা তাকে ছুরিকাঘাত করে। শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে নিজেকে রক্ষা করতে দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করে আদনান। কিছুদুর গিয়েই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। রক্তমাখা শরীরে বাঁচার আকুতি জানালেও এগিয়ে আসেনি কেউ।
হত্যাকারীরা স্থান ত্যাগ করার পরপরই আদনানকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আদনানের বাবা আখতার জামান খাগড়াছড়িতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। সন্তানের মৃত্যুর পর বাবা-ছেলের দেখা হওয়ার সে দৃশ্যে কেঁদেছে পুরো চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
কোতয়ালি থনার ওসি জসিমউদ্দীন চ্যানেল অাই অনলাইনকে বলেন: ‘এ বিষয়ে থানায় এখনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা থেকে আদনানকে হত্যাকারিদের কয়েকজনের নাম আমরা পেয়েছি। তাদের সহ বাকি হত্যাকারিদের ধরতে কাজ করছে পুলিশ।’

তবে কী কারণে আদনানকে হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয় পুলিশের কাছে। প্রতক্ষদর্শীসহ স্বজনদের সাথে কথা বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।
আদনানের স্বজনরা বলছেন, আদনানের পরিবারের সঙ্গে কারও কোন বিরোধ ছিলনা। তাহলে কেন খুন হলো আদনান? এ প্রশ্ন এখন ঘুরে ফিরছে তার স্বজনদের মুখে। কেউ কেউ ধারণা করছেন প্রিয় ক্রিকেটই আবার কাল হলনাতো আদনানের জীবনে।
আদনানের লাশ বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে আছে। সেখানে ময়নাতদন্তের পর লাশ হস্তান্তর করা হবে পরিবারের কাছে।







