প্রত্যন্ত হাওড় অঞ্চল হিসেবে খালিয়াজুরীর বেশ পরিচিতি রয়েছে দুর্গমতার জন্য। দুর্গম বলেই পরিবেশ দূষণ এখনো এতোটা ছড়াতে পারে নাই সেখানে। প্রাকৃতিক দৃশ্যের মনোরম আয়োজনে খালিয়াজুরী নেত্রকোণা জেলার একটি ছোট্ট উপজেলা। হাওড় অঞ্চল বলে বছরের প্রায় সাত থেকে আটমাস খালিয়াজুরী থাকে পানিবন্দী। শীতে হাওড়ের পানি নেমে গিয়ে জেগে ওঠে সবুজ ভূমি। আদিন্ত বিস্তৃত সবুজের যেন কোন সীমা নেই।

হাওড়ের গ্রাম বাংলাদেশের আর আর গ্রাম থেকে আলাদা। প্রতি বছর এপ্রিল মে মাসে পাহাড়ি ঢলের পানি তলিয়ে দেয় এই জনপদ। তাই মাটি কেটে উঁচু করে গড়ে ওঠে এক-একটা ‘হাটি’। হাটিতে অনেকগুলো পরিবার ছোট ছোট ঘরে দলা বেঁধে থাকে। এক একটা গ্রামে তিনটা চারটা করে হাটি থাকে।

এই শীতে শীত অনুভব করতে ঘুরে আসতে পারেন খালিয়াজুরী থেকে। উপভোগ করে আসতে পারেন খালিয়াজুরীর শীতের সৌন্দর্য।

খালিয়াজুরী যেতে চাইলে আপনি বিভিন্ন ভাবে যেতে পারেন। ঢাকা থেকে খালিয়াজুরী যাওয়ার সবেচয়ে সুবিধাজনক পথটি হচ্ছে মোহনগঞ্জ হয়ে যাওয়া। এতে আপনি ট্রেন ভ্রমণ, সিএনজি অটোরিকশা ভ্রমণ, ট্রলার ভ্রমণ তিনটির স্বাদই পাবেন।

ঢাকা থেকে হাওড় এক্সপ্রেসে করে মোহনগঞ্জ চলে যেতে পারেন। মোহনগঞ্জ থেকে সিএনজি অটোরিকশা করে বোয়ালি। আর বোয়ালি থেকে শুকনা মৌসুমে ভাড়ার মোটরসাইকেল আর বর্ষা মৌসুমে কলের নৌকা করে খালিয়াজুরী, বাংলাদেশ। হাওড় এক্সপ্রেস কমলাপুর থেকে ছাড়ে রাত এগারোটা পঞ্চাশে। বুধবার ছাড়া।
ট্রেন মোহনগঞ্জে পৌঁছে সকাল ছয়টার দিকে। সিএনজি অটোরিকশা করে মোহনগঞ্জ থেকে বোয়ালি যাওয়ার পথটায় যেতে যেতে গ্রাম-বাংলার সকাল বেলার অপার সৌন্দর্য আপনি উপভোগ করবেন। ইচ্ছে করলে সিএনজি অটোরিকশা করে নাওটানা অবধিও যেতে পারেন। নাওটানা থেকে কলের নৌকা অর্থাৎ ট্রলারে করে খালিয়াজুরী ঘাট।

খালিয়াজুরীতে ডাকবাংলোতে থাকার ব্যবস্থা আছে। ডাকবাংলো দেখাশোনা করেন কাশেম ভাই। তার ফোন নম্বর ০১৭৭১৫৫৩০১১।

খাওয়া-দাওয়া করার জন্য হোটেল আছে। কাশেম ভাইকে বললেও খাবারের ব্যবস্থা করবে। তবে খালিয়াজুরীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। তাজা দেশী মাছ। হাওড়ের মাছ। সকালে বা বিকালে মাছের আড়ৎ থেকে মাছ কিনতে পারবেন। মাছ কিনে যদি আলীনূর চাচাকে দেন তবে তিনিই আপনার খাবারের ব্যবস্থা করে দিবেন। আলীনূর চাচার ফোন নম্বর ০১৭০৪৬৫৩৫১৩।

কী দেখবেন খালিয়াজুরীতে?
খালিয়াজুরীতে দেখবেন। বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। হাওড়, নদী, হাওড়ের মানুষের জীবন। সকালে রাখালদল গরুর পাল নিয়ে মাঠে যায়।

জেলেরা মাছ ধরছে, নৌকা বেয়ে নিয়ে যাচ্ছে মাঝি। আদিগন্ত বিস্তৃত সবুজ মাঠে দাঁড়িয়ে আছে নিঃসঙ্গ হিজল।

হাওড়ের দেখবেন দলবাঁধা শাদা বক, সারস, পানকৌড়ি আর পরিযায়ী পাখি। শীতের রোদে ঝলমল করে ওঠা প্রকৃতির বিশালতা আপনাকে মুগ্ধ করবে।

খালিয়াজুরীর হাওড়ে ভোর থেকে রাত অবধি বিচিত্র রঙ ও জীবন ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। নিজের চোখে এই রূপ রঙ একবার মেখে নিতে না পারলে খুব অপূর্ণ থেকে যাবে প্রকৃতি প্রেমী মানুষের জীবন।

আর হ্যাঁ, খালিয়াজুরী ভ্রমণ করতে করতে আপনি গুনগুন করে গেয়ে উঠতে পারেন উকিলমুন্সির গান। উকিলমুন্সি জন্মেছিলেন খালিয়াজুরীর বোয়ালি গ্রামে।









