চতুর্থ দিন আর পঞ্চম দিনের উপস্থিতিতে স্পষ্টত ভিন্নতা। চতুর্থ দিন ছাউনি বাদে মাঠের অংশতে বেশ ফাঁকা ছিল। লোকজন নড়াচড়ার উপায় ছিল। শেষ দিনে তা নেই। তার মানে উপস্থিতি অনেক। কিসের টানে শেষের দিনে এত দর্শক! তাদের বেশির ভাগের কথা, বাঁশির টানে তারা এসেছে। চৌরাসিয়ার বাঁশি। দেখতে নয় শুনতে। কত উপস্থিতি হবে? ৩০ হাজার এর কম তো নয়ই।
একে একে ফুরিয়ে এসেছে ওড়িশি নাচ থেকে বিচিত্র খেয়াল, সেতার হয়ে মোহনবীণা। শনিবার সন্ধ্যায় বিদুষী সুজাতা মহাপাত্রের ওড়িশি নৃত্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ দিনের আয়োজন। এরপর খেয়াল পরিবেশন করেন ব্রজেশ্বর চ্যাটার্জী। সেতারের সুরে শ্রোতাদের মোহিত করেন পণ্ডিত কুশল দাস ও কল্যাণজিত দাস এবং পণ্ডিত কৈবল্যকুমার। সেতারের আগে নিজের সৃষ্ট মোহন বীণা বাজান পণ্ডিত বিশ্বমোহন ভট্ট।
পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া ছাড়া বেঙ্গল আয়োজিত উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব যেন ভাবাই যায় না। গত কয়েক বছরের আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিলেন তিনি। এবারেও তাই। রোববার দিবাগত রাত ৪টায় মঞ্চে ওঠেন চৌরাসিয়া। উঠেই কথায় মাতিয়ে দেন। বলেন, পুরো বছর অপেক্ষায় থাকি এর জন্য। পুরো বছর। বিশ্বের কোথাও এমনটি আর নেই।’
বেঁজে ওঠে চৌরাসিয়ার বাঁশি। এক একটি ফুঁয়ে বেজে ওঠে হৃদয়। ফুঁটে ওঠে সময়। ছুঁয়ে যায় স্মৃতি। দেড় ঘন্টার অনুপম বাদনে বিলীন হয় উৎসব। কিন্তু রেশ থেকে যায় অনন্ত অপেক্ষার অনুসঙ্গ হয়ে। সঙ্গে সঙ্গত করে চলেন বাঁশিতেই বিবেক সোনার ও ইউকা নাগাহ, তবলায় পণ্ডিত শুভঙ্কর বন্দোপাধ্যায়, ভবানী শঙ্কর এবং তানপুরায় মুশফিকুল ইসলাম। 
হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া তালিম নিয়েছেন মাইহার ঘরানার গুরু অন্নপূর্ণা দেবীর কাছে। তার অর্জন ও সম্মাননার তালিকা বেশ দীর্ঘ। ভারত সরকার তাকে পদ্মবিভূষণ, সংগীত নাটক একাডেমি পুরস্কার ও ন্যাশনাল এমিনেন্স অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করেছে। ডাচ রাজপরিবারের পক্ষ থেকে ‘অফিসার ইন দ্য অর্ডার অফ ওরাঞ্জ ন্যাসো’ খেতাব এবং ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে নাইট উপাধি লাভ করেছেন তিনি।
ছবি : তানভীর আশিক







