দলের হার প্রায় নিশ্চিত। তবুও প্রতিপক্ষের একজনের উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছেন জুভেন্টাস সমর্থকরা। এমন অসাধারণ দৃশ্যের অবতারণা যার কল্যাণে, তিনি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। মঙ্গলবার রাতে পর্তুগিজ মহাতারকা জোড়া গোল করে কেড়ে নিয়েছেন জুভদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমির স্বপ্ন। রিয়াল মাদ্রিদকে জিতিয়েছেন ৩-০ গোলে। সঙ্গে কেড়ে নিয়েছেন স্বাগতিক সমর্থকদের হৃদয়ও!
এমন হারে শেষ আটের প্রথম লেগেই পথটা কঠিন হয়ে গেল জুভেন্টাসের। ১১ এপ্রিল রিয়ালের মাঠে একপ্রকার অসাধ্য সাধন করতে পারলেই কেবল সম্ভাবনা ফিরবে তুরিনের বুড়িদের। যে ম্যাচ দলটি পাবে না নিজেদের সেরা অস্ত্র পাওলো দিবালাকে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে একমাত্র ফুটবলার হিসেবে টানা দশ ম্যাচে গোল করার রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন রোনালদো। সেই রেকর্ড গড়তে সময় নিয়েছেন মাত্র তিন মিনিটে। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই ইস্কোর পাসে আলতো ভঙ্গিতে পা ছুঁয়ে রিয়ালকে এগিয়ে নেন পর্তুগিজ সুপারস্টার।
পিছিয়ে পড়া জুভদের ২৩ মিনিটে সমতায় প্রায় এনেই ফেলেছিলেন গঞ্জালো হিগুয়েন! আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের কঠিন এক ভলি অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দিয়ে নায়ক রিয়াল গোলরক্ষক কেইলর নাভাস। পরে ৩৪ মিনিটে পিছলে পড়ে আরেকটি সহজ গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন পাওলো দিবালা।

ম্যাচের ৩৬ মিনিটে ব্যবধান বাড়তে পারতো রিয়ালেরও। টনি ক্রুজের দূরপাল্লার জোরাল বুলেট শট গোলবারে লেগে চলে যায় মাঠের বাইরে।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ ছিল রোনালদোর সামনে। ৫০ মিনিটে পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জয়ী মহাতারকার শট মাঠের বাইরে চলে যায় বার ঘেঁষে।
ম্যাচের ৫৫ মিনিটে নিজেদের ডি-বক্সের বাইরে দিবালাকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন সার্জিও রামোস। তাতে পরের লেগে নিজেদের মাঠে খেলতে পারবেন না রিয়াল অধিনায়ক।
সেই ধাক্কা দ্রুতই সামলায় অতিথিরা। ৬৪ মিনিটে রোনালদোর চোখজুড়ানো এক বাইসাইকেল কিক ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় জুভেন্টাসকে। দানি কারভাহালের উড়িয়ে দেয়া পাস মাটিতে পড়ার আগেই স্বাগতিক গোলরক্ষক বুফনকে দর্শক বানিয়ে বাইসাইকেল কিকে জালে জড়ান পর্তুগিজ তারকা। দারুণ এ গোলের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রোনালদোকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জুভেন্টাসের সমর্থকরাও।

এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিঃসন্দেহে সেরা গোলটি এল সিআর সেভেনের পা থেকেই। সঙ্গে চলতি টুর্নামেন্টে তার ব্যক্তিগত ১৪তম গোলটিও। যাতে ১৯তম কোয়ার্টার ফাইনালে ২২ গোলও হয়ে গেল রোনালদোর।
পরে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা জুভদের দুঃখ বাড়ান দিবালা। ৬৬ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের জেরে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেন রেফারি। ৪৫ মিনিটে ডাইভ দেয়ার অপরাধে প্রথম হলুদ কার্ডটি দেখেছিলেন দিবালা। তাতে ফিরতি লেগে রিয়ালের মাঠে খেলা হচ্ছে না তার।
স্বাগতিকদের ইউরোপ জয়ের স্বপ্নে এক প্রকার পেরেক ঠুকে দিয়েছে মার্সেলোর গোলটি। ম্যাচের ৭২ মিনিটে হতাশ বুফনকে নাচিয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার। পরে দারুণ কিছু সম্ভাবনা জাগালেও আর ব্যবধান বাড়েনি।
রাতের অন্য ম্যাচে সেভিয়ার মাঠে ২-১ ব্যবধানে জিতেছে বায়ার্ন মিউনিখ।







