চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের প্রথম আধা ঘণ্টার মধ্যই লিভারপুল আর মিশরে অন্ধকার নামিয়ে মাঠ ছাড়েন মোহামেদ সালাহ। উঠে যাওয়ার সময় চোখের পানি আটকাতে পারছিলেন না তিনি। যতটা না কাঁধের যন্ত্রণায়, তার চেয়ে বেশি শুরুতেই যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়তে বাধ্য হওয়ায়।
মৌসুম জুড়ে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে গোল করেছেন সালাহ। শনিবার যখন আঘাত পেয়ে তিনি মাঠ ছাড়েন তখন হতভম্ব লিভারপুল গ্যালারি। কারো মাথায় হাত, কারো চোখ ছল ছল। তবে লিভারপুলের দুঃখের লাল সাগরের চেয়ে বেশি ঢেউ জেগেছে মিশরে। অল রেডদের মতো তারাও যে স্বপ্নের জাল বুনেছে ‘মিশরীয় মেসিকে’ নিয়েই।
সালাহর দুঃখে দূরে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেননি ম্যাচে তার ‘আসল শত্রু’ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও। সমবেদনা জানাতে ছুটে যান কাছে, মুছে দেন সালাহর চোখের পানি। সমবেদনা জানিয়ে রোনালদো নজর কাড়লেও শনিবার অবশ্যই মিশরে শত্রু বাড়িয়ে ফেলেছেন সার্জিও রামোস। যার ধাক্কায় এখন কাঁদছে পুরো মিশর।
তবে চোখে পানি নিয়েও আশায় মিশরীয়রা। তাদের নায়ক বিশ্বকাপে থাকবে বলেই আত্মবিশ্বাস পিরামিডের দেশে।
সালাহ উঠে যাওয়ার পরই খেলায় খেই হারিয়ে ফেলে লিভারপুল। পরে ৩-১ গোলে হেরে ২০০৫ সালের পর আবার শিরোপা জেতা থেকে বঞ্চিত হয় অলরেডরা।
সালাহর ইনজুরি মারাত্মক বলেই জানিয়েছেন লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ। ‘এটা সত্যিই গুরুতর আঘাত;-বলেছেন তিনি।
তারপরও আশায় মিশর। দেশটির ফুটবল ফেডারেশন টুইট করে জানিয়েছে, ‘সালাহর কাঁধের লিগামেন্টে মোচড় খেয়েছে। তবে বিশ্বকাপে তার খেলা নিয়ে আমরা আশাবাদী।’
‘মিশরে শোকের কান্না’
সালাহর ইনজুরি নিয়ে মিশরে রীতিমত শোকের কান্না। দেশটির ফুটবল সাংবাদিক মারওয়ান আহমেদ বিবিসিকে বলেন, ‘সত্যিই, আমি মনে করি এটা দুঃস্বপ্ন। এটা ব্যাখ্যা করার কোনো ভাষা নেই। সালাহকে প্রথম পড়ে থাকতে দেখে স্তব্ধ হয়ে যাই। দ্বিতীয়বার যখন তিনি শুয়ে পড়লেন তখনই মনে হল সব ঠিকঠাক নেই, তাকে হয়তো মাঠ ছাড়তে হবে।পরে তাই হল।’
তিনি আরও বলেন, ‘যা ঘটেছে কোনো মিশরীয়ই এমনটা দেখতে চাননি। আমরা কখনোই একজন মিশরীয়কে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল খেলতে দেখিনি। এটা সত্যি দুঃখের। এটা ব্যাখ্যা করার কোনো ভাষা বা শব্দ আমি খুঁজে পাচ্ছি না। বহু লোক শুধুই কাঁদছিল।’
‘আমি আশা করি, সালাহর এই ইনজুরি বিশ্বকাপে প্রভাব ফেলবে না। সে মিশরের ইতিহাসে গ্রেট খেলোয়াড়। আমরা ২৮ বছর বিশ্বকাপে খেলতে পারিনি। তার কল্যাণেই আমরা সেই স্বপ্নের দোরগোড়ায়’-যোগ করেন আহমেদ।







