প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের জন্য অনুশীলন শুরু করেছে মোহামেডোন স্পোর্টিং ক্লাব। দলের আইকন ও সম্ভাব্য অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম জানিয়েছেন, ক্লাবকে চ্যাম্পিয়নশিপ এনে দেওয়ার চেষ্টার সঙ্গে নিজের পুরনো ফর্মও ফিরিয়ে আনতে চান তিনি।
চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে মুশফিক কথা বলেছেন টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘এক রানের ট্র্যাজেডি’র সেই ম্যাচ নিয়েও।
চ্যানেল আই অনলাইন: মুশফিক, বিশ্বকাপের পর এখন প্রিমিয়ার লিগের ব্যস্ততা, আপনি এবার মোহামেডানের জার্সিতে, লিগ নিয়ে কি চিন্তা-ভাবনা?
মুশফিকুর রহিম: শুরুতেই ধন্যবাদ দিবো মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে। কারণ তারা আমাকে ‘আইকন’ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এর প্রতিদানও যেনো আমি আমার পারফরম্যান্স দিয়ে দিতে পারি। ইনশাল্লাহ, আশা করি ভালো কিছু হবে।
চ্যানেল আই অনলাইন: সব মিলিয়ে মোহামেডান টিমটা কেমন হলো?
মুশফিকুর রহিম: যেহেতু লটারি ছিলো, কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়তো আমরা আনলাকি ছিলাম। বাট এখন যদি আমরা নামে চিন্তা না করে যার যার পজিশন মতো নামের প্রতি সুবিচার করতে পারি তাহলে ইনশাল্লাহ এ বছর মোহামেডান ভালো একটা পজিশনই পাবে।
চ্যানেল আই অনলাইন: যদিও ঘরোয়া ক্রিকেট, তারপরও মোহামেডানের মতো বড় ক্লাবে খেলছেন, আলাদা কোন চাপ কাজ করছে?
মুশফিকুর রহিম: এটা যেকোন প্লেয়ারের জন্য একটা স্বপ্ন- মোহামেডান বা আবাহনীর মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের পক্ষে খেলা। সবারই স্বপ্ন থাকে, আমারও তাই। প্রথমবারের মতো মোহামেডানের মতো বড় ক্লাবে খেলছি, এটা অনেক বড় পাওয়াও বলতে পারেন।

চ্যানেল আই অনলাইন: মোহামেডানের বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে, একটা চাপ নিশ্চয়ই কাজ করবে এসব নিয়ে?
মুশফিকুর রহিম: নাহ, সমর্থকদের চাপতো আসলে সব জায়গায়ই থাকে। যখন যেখানে খেলি, চেষ্টা করি মানিয়ে নিয়ে নিজের সেরা ক্রিকেটটা খেলতে। এবং সবকিছু সিরিয়াসলিই করার চেষ্টা করি। এখানেও চেষ্টা থাকবে মোহামেডানকে একটা ভালো পর্যায়ে নিয়ে যেতে।
চ্যানেল আই অনলাইন: শুধু কি টিম, নিজের ফর্মটা নিয়েও নিশ্চয়ই কিছু পরিকল্পনা করেছেন?
মুশফিকুর রহিম: তা তো অবশ্যই, গত এশিয়া কাপে এবং টি-টুয়েন্টি ওয়ার্ল্ডকাপে হয়তো আমি যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবে খেলতে পারিনি। বাট, আমি ছাড়াও আমাদের টিম অনেক ভালো করেছে। সো, এটা প্রমাণ করে যে আমাদের পারফর্মার আগের চেয়ে বেড়েছে। অবশ্যই এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য একটা ‘গুড-সাইন’। যা হোক, সব ভুলে চাইবো নিজের আগের ফর্মটা ফিরিয়ে আনতে এই লিগ দিয়ে। কিংবা আগের চেয়েও অনেক ভালো করতে চেষ্টা করে যাবো। বলতে পারেন এটা একটা চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া আমি আত্মবিশ্বাস পাচ্ছি, কারণ প্রিমিয়ার লিগে বরাবরই খুব ভালো করি। চেষ্টা করবো এ সিজনেও যেনো এর ব্যতিক্রম না হয়। দেখা যাক।

চ্যানেল আই অনলাইন: মুশফিক বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ যখন চলেই আসলো, একটু পেছনে যেতে চাই। যদিও আপনি বলেছেন প্রিমিয়ার লিগ ছাড়া অন্য কোন প্রসঙ্গে কথা বলবেন না আজ। কিন্তু আপনার অগণিত যে ভক্তকুল, তারা আপনার মুখেই শুনতে চান ভারতের বিপক্ষে ওই ‘ট্র্যাজেডি ম্যাচ’ সম্পর্কে।
মুশফিকুর রহিম: (মলিন হাসি) ওই সময় পরিস্থিতিটা আসলে অন্যরকম ছিলো। বিশ্বাস করুন, এরকম সিচুয়েশন আমার গত ১১ বছরের ক্যারিয়ারে কখনো আসেনি। দেখুন, যখন পরপর দুই বলে দুটো চার হলো, আমার কখনও মাথায়ই আসেনি যে আমি এক রান নেবো। আমার ইচ্ছা ছিলো বাউন্ডারি বা ছক্কা মেরেই আমি দেশকে জেতাবো। অন্তত নিজের প্রতি আমার সে কনফিডেন্সটা ছিলো যে আমি তা পারবো। সেটাই চেষ্টা করেছি কিন্তু হয়নি। হয়তোবা আমার এক্সিকিউশনটা ‘পুওর’ ছিলো।
আর ওই সময়ে এক রান নিলে হয়তো আমাদের টিমটা অনেকটা নিরাপদ অবস্থায় চলে যেতো। তবে আমার চেষ্টার কোন কমতি ছিলো না। যাহোক, যা হয়েছে হয়েছে। ইনশাল্লাহ, ভবিষ্যতে আবার এরকম সিচুয়েশনে যদি কখনো পড়ি তাহলে আশা করি সব ঠিকঠাক মতো হবে।
চ্যানেল আই অনলাইন: একটু ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ, ইদানিং ফেসবুকে একটা পোস্ট দিয়েও ঝামেলায় পড়লেন?
মুশফিকুর রহিম: নাহ, ওসব ঠিক হয়ে গেছে। এখন আর কোন ঝামেলা নেই। ভুলে যান এসব।
চ্যানেল আই অনলাইন: অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে মুশফিক, আমাদের সময় দিয়েছেন। লিগে আপনার এবং আপনার ক্লাবের জন্য আগাম শুভকামনা।
মুশফিকুর রহিম: ধন্যবাদ, দোয়া রাখবেন।







