সরকারের খোলা বাজারে (ওএমএস) চাল বিক্রিতে তেমন সাড়া মিলছে না। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই কার্যক্রম হাতে নেয়া হলেও তাদের খুব বেশি আকৃষ্ট করতে পারেনি ওএমএস। সিদ্ধ চালের পরিবর্তে আতপ চাল বিক্রি করায় বিমুখ হচ্ছেন ক্রেতারা। ফলে মাত্র একদিনের ব্যবধানেই চাল বিক্রি করা ট্রাকের সংখ্যা কমেছে ১৩টি। খাদ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এ বছর হাওরে বন্যা ও ব্লাষ্ট রোগে ধানের উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়। এ কারণে বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চাল আমদানিতে শুল্ক ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ, বিনা জামানতে চাল আমদানির সুযোগ, সরকারি উদ্যোগে চাল কেনাসহ নানা ধরনের সিদ্ধান্ত হয়। তবুও দাম কমেনি। বরং লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে চালের দাম। এতে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন ভোক্তারা।
বাজারে চালের দাম স্বাভাবিক রাখা ও নিম্ন আয়ের মানুষদের কম দামে চাল দেয়ার উদ্যোগ হিসাবে রোববার থেকে রাজধানী ঢাকাসহ জেলা শহরগুলোতে খোলা বাজারে চাল বিক্রি শুরু করে সরকার। গত বছরের চেয়ে দাম দ্বিগুণ হয়েছে, কিন্তু কেজি প্রতি দাম মাত্র ৩০ টাকা। তারপরও ওএমএসে আগ্রহী নয় সাধারণ মানুষ।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ১০৯টি ট্রাকে চাল বিক্রি করার কথা। প্রতি ট্রাকে প্রতিদিন এক টন চাল বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে হিসাবে ১০৯ টন চাল বিক্রি করার কথা। কিন্তু দিন শেষে কাঙ্খিত পরিমাণ চাল বিক্রি হয়নি। কারণ গত বছর সিদ্ধ চাল বিক্রি করা হলেও এ বছর বিক্রি করা হচ্ছে আতপ চাল। নিম্ন আয়ের মানুষ আতপ চাল কিনতে আগ্রহী নয়। ফলে মাত্র একদিনের ব্যবধানেই চাল বিক্রি করা ট্রাকের সংখ্যা কমেছে ১৩টি। রোববার রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ১০৯ টি ট্রাকে চাল বিক্রি করা হলেও সোমবার বিক্রি হয়েছে ৯৬ টি ট্রাকে।
আতপ চালে ক্রেতার অনীহার সত্যতা পাওয়া গেছে রাজধানীর বাংলা মোটর ও পান্থপথসহ কয়েকটি স্থানে ওএমএসের ট্রাক দেখে। সেসব জায়গায় ট্রাক দেখা দেখা গেলেও ক্রেতাদের ভিড় ছিল না।
রাজধানীর বাংলা মোটরে চাল কিনতে আসা রিকশাচালক রহিম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘আতপ চাল খাওয়ার অভ্যাস নাই। সরকার সিদ্ধ চাল না দিয়ে আতপ দিয়েছে। এতে আমাদের মতো গরীব মানুষের খুব বেশি উপকার হবে না।’

ক্রেতারা আতপ চাল কিনতে আগ্রহী না হলেও কিছুই করার নেই বলে জানিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, গুদামে সিদ্ধ চালের সংকট, এজন্য ওএমএসে আতপ চাল দেয়া হচ্ছে। কারণ সরকার বোরো সংগ্রহ করতে পারেনি।
তারা জানান: বিদেশ থেকে যে চাল আমদানি করা হচ্ছে তারও বেশিরভাগ আতপ চাল। ভিয়েতনাম থেকে আড়াই লাখ টন চাল দেশে এসেছে। এর মধ্যে দুই লাখ টনই আতপ। কম্বোডিয়া থেকে যে আড়াই লাখ টন চাল আসছে সেটাও আতপ। এছাড়া মিয়ানমার থেকে যে চাল আমদানি হবে তাও আতপ। অতএব ওএমএসের মাধ্যমে আতপ চালই বিক্রি হবে।
সিদ্ধ চাল বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে তারা জানান।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে মোট ৭ লাখ ৫৩ হাজার টন চাল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে সরকারি উদ্যোগে আমদানি করা হয় ১ লাখ ৮৪ হাজার টন চাল।
মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ ১৪ সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, সরকারি গুদামে মোট চাল মজুদ আছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার টন। এছাড়া বন্দরে চাল ও গম মিলে রয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার লাখ টন।
খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সাধারণ বাজারে সোমবার মোটা চাল বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৫২ টাকায়, আর সরু চাল বিক্রি হয়েছে ৬২ থেকে ৭০ টাকায়।








