নিজেদের শক্তি আর প্রতিপক্ষের দুর্বলতা। দুইয়ের যোগসূত্র ঘটাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চট্টগ্রামের পর মিরপুরেও স্পিনসহায়ক উইকেটে খেলেছে বাংলাদেশ। এসেছে অবিস্মরণীয় সাফল্য। এরআগে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গেও ঘরের মাঠে জয় এসেছে একই ফর্মুলায়।
দুই ম্যাচের সিরিজে ক্যারিবীয়দের সবকটি উইকেট তুলে নিয়েছেন টাইগারদের স্পিন-চতুষ্টয় মিলে। সিরিজের প্রথম টেস্টে একমাত্র পেসার হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমান থাকলেও মিরপুরে একাদশে ছিল না কোনো পেসার। ঘরের মাঠে সিরিজে প্রতিপক্ষকে ঘূর্ণিতে বিষিয়ে তোলার ধারাই হয়ে উঠছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ! পেস-নির্ভরতা কমতে কমতে ঠেকেছে শূন্যের কোটায়।
লাল বলের স্পিন আক্রমণে সাকিব-তাইজুল-মিরাজের সঙ্গে যোগ হয়েছেন তরুণ নাঈম হাসান। চার স্পিনার ৪০ উইকেট নিয়ে এই ফর্মুলাকে(স্পিনফাঁদ) স্থায়ীরূপ দেয়ার কাজটা সেরে ফেলেছেন অনেকটাই। টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান মনে করেন হোম সিরিজে ধারাটা অব্যাহত রাখলে সামনে আরও ভালো দিন আসতে পারে।
স্পিনে শক্তি বাড়ায় এই ফর্মুলা আঁকড়েই আরও জয়ের পথ রচনা করতে চান সাকিব, ‘আমরা খুবই ভালো বোলিং করছি। এর দুইটা কারণ আছে। একটা হচ্ছে, আমাদের এখন যথেষ্ট মানসম্পন্ন বোলার আছে। দ্বিতীয়টা হচ্ছে, আমরা স্পিনারদের সহায়তা করার মতো তেমন উইকেটও পাচ্ছি। দুইটার সমন্বয়ে, বিশেষ করে দেশের মাটিতে আমাদের মারাত্মক একটা স্পিন আক্রমণ আছে এখন।’
‘যেকোনো দলের বিপক্ষে আমরা খুব ভালো কিছু করতে পারব। আশা করি এই ধারাটা অব্যাহত থাকবে। কারণ, অনেক সময় দেখা যায় একটা মৌসুম খুব ভালো যায়, পরেরটা অত ভালো যায় না। যেহেতু আমরা ৩-৪ জন আছি, এক-দুই জনের তো সবসময় ভালো যাবেই।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশ (২-০) করে টেস্টে ২০১৮ সাল শেষ করল বাংলাদেশ। বিদায়ী বছরে নিজেদের শেষ টেস্ট টাইগাররা জিতেছে ইনিংস ও ১৮৪ রানে। নতুন বছরের শুরুটা হবে নিউজিল্যান্ডে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ দিয়ে। সেখানকার বাউন্সি উইকেটে সাকিব আবার ভরসা রাখছেন পেসারদের কাঁধেই।
অধিনায়ক মনে করেন পেসেও শক্তিশালী হয়ে উঠছে বাংলাদেশ। যেটি কাজে লাগবে আগামী বিদেশ সফরেই। দেশে পুরোপুরি স্পিন, বিদেশে পুরোপুরি পেস-নির্ভরতার কথা উঠে এল বাংলাদেশের ক্রিকেটের পোস্টারবয় সাকিবের কথায়।
‘পেসাররা নিউজিল্যান্ড সফরের প্রস্তুতি নিয়ে রাখবে আশা করি। ওরা ওদের পরিশ্রম ও বোলিংয়ের প্রতিদানও দিতে পারবে। তবে যতই প্রস্তুতি নিন, জায়গামতো কাজ না করতে পারলে কাজে আসে না। আমি বিশ্বাস করি আমাদের ফাস্ট বোলারদের ভেতর বেশ সম্ভাবনা আছে, বিশেষ করে কিছু নতুন পেস বোলার আছে। অল্পকিছু ম্যাচ খেলা পেসার আছে। ভালো কম্বিনেশন যদি তৈরি করতে পারি, পেসাররা যদি সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে বোলিং করতে পারে, আমার মতে, নিউজিল্যান্ডে তারা সফলতা পেতে পারে।’
চট্টগ্রাম টেস্টে একমাত্র পেসার হিসেবে খেলা মোস্তাফিজ হাত ঘোরান মাত্র চার ওভার। দ্বিতীয় টেস্টে কোনো পেসারের জায়গা হয়নি একাদশে। ম্যাচে বল করার অভ্যাস হচ্ছে না তেমন। বাইরে বসে ছিলেন আবু জায়েদ রাহি, খালেদ আহমেদের মতো সম্ভাবনা জাগানো পেসাররা।
ম্যাচ অনুশীলন হচ্ছে না, তাহলে নিউজিল্যান্ড সফরের আগে তারা কীভাবে নিজেদের প্রস্তুত করবে? এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ ক্রিকেটের থিংক ট্যাঙ্কের একজন হয়ে সাকিব বললেন, ‘মানসিক উন্নতি ছাড়া তাদের খুব একটা করার দরকার নেই। তিনটা টেস্ট আছে নিউজিল্যান্ডে, প্রচুর বল করার সুযোগ পাবে। পেসাররাই বল করবে, স্পিনাররা করবে না (হাসি)।’







