নতুন অর্থ বছরের বাজেটে কিছু ক্ষেত্রে উৎসে কর ও শুল্কহার প্রস্তাবের চেয়ে কমলেও রাজস্ব আদায়ে বড় প্রভাব পড়বে না বলেই অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন। তারপরও বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হবে কি না বুঝতে নতুন কর্মকৌশল তৈরির কথা জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, এনবিআর।
পাস হওয়া বাজেটে বেসরকারি উচ্চশিক্ষায় মূসক হার ১০ শতাংশের বদলে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। ইউনানী ও আয়ুর্বেদীয় ওষুধে মূসক সম্পূর্ণ উঠিয়ে নেয়ারর পাশাপাশি পোল্ট্রি ও মাছ চাষে করমুক্ত আয়ের সীমা ১০ লাখের বদলে ২০ লাখ টাকা করা হয়েছে।
আর বেশি রাজস্ব আসতে পারতো যেখান থেকে সেই রপ্তানিতে উৎসে কর হার এক শতাংশের বদলে করা হয়েছে দশমিক ছয় শতাংশ।
এভাবে কিছু ক্ষেত্রে শুল্কহার কমিয়ে আনায় তা সামগ্রিক রাজস্ব আদায়ে প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ, সিপিডি।
প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, কিছু ক্ষেত্রে পুনর্বিবেচনা করে শুল্ক হার কমানোর সিদ্ধান্ত আসলেই যৌক্তিক। যেমন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফির উপর মূসক। ‘ভোজ্য তেল এবং চিনির উপর শুল্ক হার কমানো হয়েছে। এতে সাধারণ জনগণ স্বস্তি পাবে।’
তিনি বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে শুল্কহার কমানো আর কিছু ক্ষেত্রে বাড়ানোর কারণে সামগ্রিক রাজস্ব আদায়ে বড় কোনো প্রভাব আসবে না।
তবে চ্যালেঞ্জটা অন্য জায়গায় উল্লেখ করে ড. মুস্তাফিজ বলেন, এ বছর সরকার রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে তা অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি। ফলে এটাকে অর্জন করতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সুসমন্বয় থাকতে হবে এবং রাজস্ব আদায়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
রপ্তানিতে উৎসে কর হার দশমিক ছয় শতাংশ করা প্রসঙ্গে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, এটা আসলে করা হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে পোশাক খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য। তবে তিনি মনে করেন, এ ক্ষেত্রে শুল্ক না কমিয়ে বরং রাজস্ব আদায়ে সরকারের যে সাশ্রয় হতো তা দিয়ে আলাদা একটি তহবিল করে নির্দিষ্ট এই ক্ষেত্রের উন্নয়নে সরকার ব্যয় করতে পারতো।
বাজেট প্রস্তাবের তুলনায় শুল্কহার কমানো বা বাড়ানো প্রসঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি আসলে সংসদীয় প্রক্রিয়া। প্রস্তাবটি সংসদে আলোচনা হয়েছে, সংশোধনীসহ অনুমোদন পেয়েছে। এখন এনবিআর সেটা পর্যালোচনা করে দেখবে, এটা নিয়ে কর্মকৌশল তৈরি করবে।
তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, কর্মকৌশল তৈরির পর দেখা যাবে আসলে কোথায় কোন ধরণের পরিবর্তন দরকার বা চ্যালেঞ্জ থাকলে তা কিভাবে মোকাবেলা করা হবে।
‘ফলে এটা রাজস্ব আদায়ে কোনো বড় প্রভাব ফেলবে কি না তা আগেই বলা যাচ্ছে না,’ বলে মন্তব্য করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
বুধবার শুরু অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ আট হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা যা গত অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ২৮ শতাংশ বেশি।






