বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে চাকিংয়ের অপবাদ বেশ পুরনো। বিসিবি বোলিং অ্যাকশন রিভিউ কমিটি গঠনের পর অবশ্য কমতে শুরু করেছে চাকিংয়ের হার। সদ্য শেষ হওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের এবারের মৌসুমে চাকিংয়ের অভিযোগ ওঠেনি কোনো বোলারের বিরুদ্ধেই।
২০১৬ সালে রিভিউ কমিটি গঠনের পর ঢাকা লিগে ১৩ বোলার চিহ্নিত করা হয়; আম্পায়ারের দৃষ্টিতে যাদের অ্যাকশন ছিল সন্দেহজনক। পরের মৌসুমে এমন বোলার পাওয়া যায় তিনজন। এবারের ঢাকা লিগে এমন কাউকেই পাওয়া যায়নি!
অ্যাকশনে ত্রুটি ধরা ও সংশোধনের জন্য কমিটি গঠন দুই বছরের ব্যবধানে দারুণ সুফল দিয়েছে। প্রশংসিত হচ্ছে রিভিউ কমিটির কার্যক্রমও। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে, তার ত্রুটি শুধরে দিতেও কাজ করছে কমিটি। যার সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট।
রিভিউ কমিটির ভিডিও বিশ্লেষক নাসিরউদ্দিন আহমেদ নাসু মনে করেন, খেলোয়াড়রা সচেতন হওয়ায় দ্রুত কমছে চাকিংয়ের হার, ‘এখন ক্রিকেটাররা অনেক সচেতন। এ কার্যক্রমের সুবিধাটা অনেক। এবছর তো কোনো আম্পায়ার কোনো বোলারের অ্যাকশন সম্পর্কেই রিপোর্ট করেনি। খেলোয়াড়রা এখন অনেক সচেতন। ওরা জানে, ওদের বোলিং দেখভাল করা হচ্ছে।’
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শুরু হয়েছিল ৫ ফেব্রুয়ারি। শেষ হয়েছে ৫ এপ্রিল। দুই মাসে মাঠে গড়িয়েছে ৮৪ ম্যাচ। যেখানে বোলারদের অ্যাকশন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে তাদের অজান্তেই। চাকার সনাক্ত করার প্রক্রিয়া নিয়ে নাসু বললেন, ‘আমাদের তালিকাভুক্ত যেসব খেলোয়াড় ছিল, যাদেরকে নিয়ে আমরা আগে কাজ করেছি, সন্দেহের তালিকায় ছিল, তাদের বোলিং আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি। তাদের ম্যাচ আমরা রেকর্ডও করেছি। তেমন কিছু পাইনি।’
‘এর আগে তো এমন কিছু করা হতো না। নির্দিষ্ট বোলারের পেছনে গোয়েন্দাগিরি হতো না। এবার অনেকটা গোয়েন্দাগিরি হয়েছে। দেখা গেছে, খেলোয়াড়টি হয়ত জানেই না যে, ওর বোলিং আমরা এক জায়গা থেকে রেকর্ড করেছি। পরে ভিডিও এনে বিশ্লেষণ করেছি। দেখেছি, পরে আবারও মাঠে গিয়ে অন্যকিছু করে কিনা। আমরা সন্তুষ্ট যে এমনকিছু পাইনি।’ -যোগ করেন নাসু।

গত বিপিএলে সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগ ওঠে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের আল-আমিন হোসেনে বিরুদ্ধে। ডানহাতি এ পেসার খেলেছেন প্রিমিয়ার লিগে। নিজেকে শুধরে নিখুঁতভাবে বোলিং করছেন বলে জানালেন নাসু।
‘আল-আমিন যথেষ্ট ভাল অবস্থায় আছে। ওর দুইটা ম্যাচ আমি নিজে গিয়ে ভিডিও করেছি। তারপর ভিডিওগুলো বিশ্লেষণ করেছি। খারাপ অবস্থায় পাইনি। প্রথম বিভাগের ৪-৫ জন বোলার অভিযুক্ত আছে। ওদেরকে খেলার ছাড়পত্র দেয়া হয়নি।’
কমিটি গঠনের পর থেকে মিরপুরের একাডেমি মাঠে মাঝে মধ্যেই দেখা মেলে অ্যাকশনে ত্রুটি শোধরাতে কিংবা বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষার জন্য কাজ করছেন রিভিউ কমিটির বিশেষজ্ঞরা। যাতে ধীরে ধীরে উন্নত প্রযুক্তির সন্নিবেশ ঘটানো হচ্ছে।
দুই ধরনের সফটওয়ার ব্যবহার করা হচ্ছে বোলারদের অ্যাকশন বিশ্লেষণে। পিচ ভিশন ও সিলিকন কোচ নামের দুটি সফটওয়ারের সমন্বয়ে হয় ভিডিও বিশ্লেষণ। পরে প্যানেলে বসে কমিটির চার সদস্য দেখেন ডেলিভারির সময় বোলারের কনুই কতটা বাঁকছে। ১৫ ডিগ্রির বেশি বাঁকলে তাদের ত্রুটি শোধরানোর সুযোগ করে দেয় বিসিবি।








