বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের ৩ জনসহ ১৪ জনই প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী মোট বৈধ ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশের কম ভোট পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সে হিসেবে অর্ধেকের বেশি, অর্থাৎ ৬০ দশমিক ৮৬ শতাংশ প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চারটি আসনের মধ্যে জামায়াত-বিএনপি সমর্থিত ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাড়া বাকি সবাই জামানত হারিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাগেরহাট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু আনছার।
বাগেরহাট-১ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮৭১টি। ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন—স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা এমএএইচ সেলিম (ঘোড়া প্রতীক, ৫ হাজার ২৮৩ ভোট), স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদ রানা (ফুটবল, ৬ হাজার ৪৬৭ ভোট), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল’র আ. সবুর শেখ (হাত-পাঞ্জা, ১৬৭ ভোট), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এমডি শামসুল হক (হারিকেন, ২৪২ ভোট), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি)’র মো. আমিনুল ইসলাম (ঈগল, ২৯১ ভোট) এবং জাতীয় পার্টির স.ম. গোলাম সরোয়ার (লাঙ্গল, ৫৭১ ভোট)।
বাগেরহাট-২ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৯৬টি। ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আতিয়ার রহমান (হাতপাখা প্রতীক, ৩ হাজার ৩১৩ ভোট) জামানত হারিয়েছেন।
বাগেরহাট-৩ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার ৬২৫টি। ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন—স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা এমএএইচ সেলিম (ঘোড়া, ৪২৫ ভোট), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ জিল্লুর রহমান (হাতপাখা, ৩ হাজার ৬৪০ ভোট) এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র মো. হাবিবুর রহমান মাস্টার (তারা, ৩৪৯ ভোট)।
বাগেরহাট-৪ আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন—স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা কাজী খায়রুজ্জামান শিপন (হরিণ, ২২৯ ভোট), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ওমর ফারুক (হাতপাখা, ৮ হাজার ৫০১ ভোট), জাতীয় পার্টির সাজন কুমার মিস্ত্রি (লাঙ্গল, ১ হাজার ১৪৭ ভোট) এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র মো. আ. লতিফ খান (তারা, ৩১৫ ভোট)।
উল্লেখ্য, কাজী খায়রুজ্জামান শিপন ভোটের আগে ১০ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে নিজের ও দলীয় কর্মীদের জীবনের নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর জামানত হারানো স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ভোটের ব্যবধানের চিত্রই তুলে ধরেছে।








