দেশে পরিবেশবান্ধব সবুজ অর্থায়ন বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘গ্রিন ব্যাংকিং’ চালু করলেও এতে ব্যাংকগুলোর তেমন আগ্রহ নেই। ফলে এ খাতে অর্থায়নে পিছিয়ে পড়েছে ব্যাংকিং খাত। গত জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রিন ব্যাংকিং খাতে মাত্র ২ হাজার ২০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। যা আগের (এপ্রিল-জুন) প্রান্তিকের তুলানায় ১৯ দশমিক ৩১ শতাংশ কম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রিন ব্যাংকিং খাতে মোট ২ হাজার ৫৮২ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করে। ৩ মাস আগে গত জুন প্রান্তিকে বিতরণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৫২২ কোটি টাকা। এ হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণ বিতরণ কমেছে ৫৬২ কোটি টাকা বা ২১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আর গত জুনের তুলনায় বিতরণ কম হয়েছে ৫০২ কোটি টাকা বা ২৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
সাম্প্রতিক কোনো প্রান্তিকে পরিবেশবান্ধব খাতে এত কম ঋণ বিতরণ হতে দেখা যায়নি।
২০১১ সাল থেকে পরিবেশবান্ধব সবুজ অর্থায়ন বাড়াতে গ্রিন ব্যাংকিং চালু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তখন বলা হয়েছিল, মোট ঋণের ৫ শতাংশ সবুজায়নে বিতরণ করতে হবে। কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) এর এক গবেষণায় উঠে এসেছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাত্র দশমিক পাঁচ (০.৫) শতাংশ অর্থায়ন হচ্ছে এ খাতে।
তথ্যমতে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি অনেক ধীর হয়ে এসেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় গত অক্টোবর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। গত ৯ বছরে কোনো মাসে এত কম প্রবৃদ্ধি হতে দেখা যায়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছে, সামগ্রিক ঋণ প্রবৃদ্ধি কমার কারণে সবুজে ব্যাংকের অর্থায়ন কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, বড় ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলো মরিয়া। তাই ছোট ঋণে আগ্রহ কম। সেজন্য কৃষি খাতে বা সবুজায়নে ঋণ কমছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম বিতরণ হচ্ছে। এটা উদ্বেগজনক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান উভয় ক্ষেত্রে ঋণ বিতরণ কমেছে। গত জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এ খাতে ব্যাংকগুলো বিতরণ করে ১ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। ৩ মাস আগে বিতরণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ১১০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। ৩ মাস আগে এসব প্রতিষ্ঠানের বিতরণের পরিমাণ ছিল ১৪২ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, আগের প্রান্তিকের তুলনায় এই প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ কমেছে ১৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। অ-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কমেছে ২৯ শতাংশ।
২০১৬ সালে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মোট ফান্ডেড লোনের ৫ শতাংশ পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ব্যাংকই সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। আলোচ্য সময়ে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পেরেছে মাত্র ২টি ব্যাংক। একটি হলো এইচএসবিসি (৮ দশমিক ৪ শতাংশ) এবং অন্যটি আইএফআইসি ব্যাংক (৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ)। আর লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছেছে ব্র্যাক ব্যাংক (৪ দশমিক ৫ শতাংশ)।
তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ করেছে বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স (৩৩ দশমিক ৭১ শতাংশ) লিমিটেড এবং ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (১২ দশমিক ৩০ শতাংশ)।







