সংগীতের ভিত্তি উচ্চাঙ্গসংগীত। যুগ-যুগ ধরে গুরু-শিষ্য পরম্পরায় সংগীতের এই ধারা এখনো এ দেশে অব্যাহত আছে। তা অব্যাহত রাখতে নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ আর তাদেরকে সংশ্লিষ্ট করতে হবে। জনপ্রিয় করতে হবে উচ্চাঙ্গসংগীত শিক্ষা ও চর্চা। নবীনদের মাঝে এই সংগীতের বীজ বপন করা সম্ভব হলে বেঁচে থাকবে এ দেশের হাজার বছরের সংগীতের ঐতিহ্য। এমনটাই মনে করছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে ছায়ানট সংস্কৃতি–ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের নিয়মিত সংগীত আসর ‘প্রাণের খেলা’। আজ উচ্চাঙ্গসংগীত পরিবেশন করেন গুরু ও শিষ্যরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে টাঙ্গাইলের ষড়জ-পঞ্চম সংগঠনের শিক্ষার্থীরা দলীয়ভাবে ছোট আলাপে সুরফাঁক তালে মালকোষ রাগে ধ্রুপদ পরিবেশন করেন। এরপর ত্রিতালে ইমন রাগে খেয়াল এবং তারানা গেয়ে শোনান তাদের সম্মেলক পরিবেশনায়। ষড়জ-পঞ্চমের শেষ পরিবেশনা ছিল গুরু ড. অসিত রায়ের। তিনি শংকরা রাগে প্রথমে আলাপ, জোড় এবং ঝালা করে পরে তিনি ধামার এবং সুরফাঁক তালে বন্দিশ পরিবেশন করেন। ষড়জ-পঞ্চমের শিল্পীরা হলেন দেবাঞ্জনা দেব, জয়িতা পন্ডিত, দেবার্পণ বসাক, শ্রেয়সী চক্রবর্তী, প্রাচী চাকী ও অর্পিতা রায়।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অংশে ছিল গুরু মর্তুজা কবীর মুরাদ ও তাঁর সংগঠন ‘আরোহ’র শিক্ষার্থীদের দলীয় বাঁশি পরিবেশনা। গুরু ও শিষ্যরা দলগতভাবে ত্রিতালে রাগ হংসধ্বনি বাজিয়ে শোনান। তারা আলাপ দিয়ে শুরু করে সমবেতভাবে মধ্যলয়ে বাজিয়ে দ্রুতলয়ে শেষ করেন। এরপর পাহাড়ী ধুন বাজিয়ে গুরু মর্তুজা কবির মুরাদ অনুষ্ঠান শেষ করেন। আরোহ’র বাঁশি শিল্পীরা রিয়াদ-উল-কবীর, প্রণব দাস, শৈবাল সাহা, নিশাত আফরোজ, নইতা নার্গিস, সোনিকা ইসলাম, সফিকুল ইসলাম তানজীব, মো. জাকারিয়া হোসেন, মো. ইফতেখার হাসান, আমিয়া সাদনাম চৌধুরী এবং মো. মোহ্তাসিম জাহিন সিমন।

যন্ত্রানুষঙ্গ সহযোগ করেন তবলায় স্বরূপ হোসেন এবং রতন কুমার দাশ, পাখোয়াজে আলমগীর পারভেজ সুমন, হারমোনিয়ামে অসিত রায়, তানপুরায় জ্ঞানশংকর পাল ও তাপস বৈরাগী।








