ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি- বিজেপি ষষ্ঠবারের মতো গুজরাটের বিধানসভার ক্ষমতা পেতে যাচ্ছে। গুজরাটের ১৮২টি আসনের মধ্যে সুরাটের বেশিরভাগ আসনই জিতেছে দলটি।
তবে গতবারের তুলনায় আসন কমেছে। আর এটাকেই ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। যা আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রভাব ফেলতে পারে।
পণ্য ও সেবা কর আইন (জিএসটি) প্রণয়নের পর ব্যবসায়ীদের প্রাণকেন্দ্র বলে পরিচিত এই সুরাট চলে গিয়েছিল বিজেপির বিরুদ্ধে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে এই জিএসটি ছিল অনেক বড় একটি ইস্যু। প্রতিদ্বন্দ্বী দল রাহুল গান্ধির কংগ্রেস সুরাটে তৈরি হওয়া এই বিদ্বেষকে পুঁজি করে বিজেপির বিরুদ্ধে কাজে লাগানোর চেষ্টাও কম করেনি।
আর তারই ফল দেখা গেছে গত নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে কংগ্রেসের আসন সংখ্যার উন্নতিতে। কিন্তু শেষ হিসেবে সবকিছুর পরও পাল্লা ভারি আবারও বিজেপিরই। কিন্তু কেন?
নরেন্দ্র মোদি নিজেই প্রধান কারণ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখন আর শুধু নরেন্দ্র মোদি বা ভারতের বর্তমান সরকারপ্রধান নন। তিনি পরিণত হয়েছেন একটা ব্র্যান্ডে। ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচন এবং গত বছরের উত্তর প্রদেশ নির্বাচনের মতো গুজরাট নির্বাচনেও মোদি একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর।
মোদির জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠতে থাকা ব্যক্তিত্ব এবং বর্তমানে অবিসংবাদিত নেতৃত্বের সমর্থন না থাকলে বিজেপির মতো বিশাল এবং শক্তিশালী দলও গুজরাটে জিততে পারত না। বিজেপির কর্মপদ্ধতি এবং অর্থনৈতিক নীতিমালা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকা সত্ত্বেও গুজরাটের অধিকাংশ ভোটার এখনো তার নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বাসী। আর সেই বিশ্বাস জোরদার করতেই নির্বাচনী প্রচারণা হিসেবে মোদি মাত্র ১৫ দিনে ৩৪টি র্যালি করেছেন।
মতাদর্শ
গুজরাটের জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক যথেষ্ট গভীর। গুজরাটি ভোটাররা বিজেপি এবং তার নীতিমালার ওপর নাখোশ থাকতে পারে; দলটির মতাদর্শের প্রতি না। ভোটারদের একটি অংশ, বিশেষ করে পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীগুলোর কৃষিজীবী এবং তরুণ সমাজ চায়নি বিজেপি তাদেরকে যে কোনো পরিস্থিতিতেই সবসময় পাশে পাবেই এমনটা ধরে নিক। সেজন্যই হয়তো গতবারের তুলনায় আসন কিছু কমেছে দলটির। কিন্তু বিধানসভার এবারের নির্বাচনে ভোট না দেয়ার মানে এই নয় যে, দলটির মতাদর্শও তারা মন থেকে মুছে ফেলেছে। পরিস্থিতি এখনো রয়েছে বিজেপির পক্ষেই।
ভালো শাসনব্যবস্থা
ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে ভোগান্তি আছে, কৃষকরা ক্ষুব্ধ, বিভিন্ন বর্ণের জনগোষ্ঠীও নানা কারণে সরকারের ওপর অনেক ক্ষেত্রেই অসন্তুষ্ট। কিন্তু এরপরও সার্বিকভাবে জনগণের ভাবনা, বিজেপি সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পরিচালিত বিজেপি সরকার জনগণের জন্য যথেষ্ট কার্যকর। এমনকি ব্যবসায়ী-শিল্পপতিসহ সমাজের উঁচু মহলেরও বিশ্বাস, বিজেপি সরকারের পতন তাদের জন্য ক্ষতিকর বই কিছু না।
গুজরাটি জাতীয়তার ভিত্তিতে প্রচারণা
নির্বাচনী প্রচারণায় নরেন্দ্র মোদি নিজে অংশ নিয়ে ভোটারদের বিজেপির পক্ষে রাখার জন্য কাজ করেছেন। প্রচারণায় সমালোচিত জিএসটি আইনকে সূক্ষ্মভাবে এড়িয়ে গিয়ে গুজরাটি জাতীয়তাবাদকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
শুধু তাই নয়, প্রতিপক্ষ রাহুল গান্ধিকে গুজরাট-বিরোধী হিসেবেও প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়েছেন তিনি নির্বাচনী প্রচারণার মধ্য দিয়ে। এর ফলে বিজেপির কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট, ভোট নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকা ভোটাররা আরও বেশি দ্বিধায় পড়ে গেছেন।







