প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার জন্য নারীরা উপযুক্ত নয়, এমন দাবি করে সম্প্রতি গুগলের একজন প্রকৌশলী একটি নোট প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই গুগলে কর্মরত নারী কর্মীরা প্রতিষ্ঠানটিতে চলমান বিভিন্ন বৈষম্যের কথা তুলে ধরতে শুরু করেছেন।
বিভিন্ন বৈষম্যের শিকার হয়ে গুগল ছেড়েছেন, এমন কিছু নারী কর্মীকে নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পদোন্নতির ক্ষেত্রে গুগলে রয়েছে ব্যাপক বৈষম্য। এছাড়া তাদের লক্ষ্য করে প্রতিনিয়তই বর্ণবাদী মন্তব্য করা হয়। ফলে সামনে এগুনোর তেমন কোনো সুযোগ তারা পান না।

কাইচেন ঝ্যাং নামের গুগলের একজন সাবেক নারী কর্মী বলেন, ‘গুগলে নির্বাহী পদে নারী কর্মী বিশেষ করে এশিয়ান নারী, কৃষ্ণবর্ণের নারীদের সংখ্যা খুবই কম। সেখানে আমি তেমন কোনো সুযোগ পাচ্ছিলাম না। প্রতিষ্ঠানটির রীতিনীতি এমন হয়ে গিয়েছে যা একজন নারী কর্মীকে সেখানে থাকতে নিরুৎসাহিত করে। এ কারণে আমি চাকরি ছেড়ে দিয়েছি।’
তাকে লক্ষ্য করে একজন পুরুষ কর্মীর করা মন্তব্যও তিনি তুলে ধরেন এ প্রতিবেদনে। ‘সে আমাকে বলেছিল আমার জন্য চাকরি পাওয়া সহজ ছিল কারণ আমি এশিয়ান এবং সবাই মনে করে আমি গণিতে ভালো। মন্তব্যটি আমাকে বাকরুদ্ধ করেছিল। মানসিকভাবে আমি ভেঙ্গে পড়েছিলাম।’

গুগলের আরও একজন সাবেক নারী কর্মী তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই নারী বলেন, গুগলে তিনি যতই কাজ করতেন তার কোনো স্বীকৃত পেতেন না। তাছাড়া গুগল ক্যাম্পাসে তাকে প্রায়ই পরিচয় পত্র দেখাতে হতো যা শ্বেতাঙ্গ কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতো না। তিনি আরও বলেন, ‘আমি সেখানে থেকেও ছিলাম না। ব্যাপারটা এমন ছিল যে আমি সেখানে কেউ না। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে থাকার কী মানে থাকতে পারে?’
গুগলের অভ্যন্তরে এমন অবস্থা বিরাজ করলেও বাইরে থেকে কিন্তু তেমনটি বোঝার কোনো উপায় নেই। তাই অনেকেই মনে করেন গুগলে বর্ণ বৈষম্য কিংবা লিঙ্গ বৈষম্য নেই, জানান ঝ্যাং।
উল্লেখ্য যে, গুগলের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে পুরুষ কর্মী ৬৯ শতাংশ এবং শ্বেতাঙ্গ কর্মী ৫৬ শতাংশ।








