রাজধানীর ধানমণ্ডিতে গাছের নিচে চাপা পড়ে চিত্রশিল্পী ও চলচ্চিত্র পরিচালক খালিদ মাহমুদ মিঠু নিহত হয়েছেন। সোমবার দুপুরে ধানমণ্ডি এলাকায় রিক্সায় করে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ ভেঙে তার মাথায় পড়ে আহত হন খালিদ মাহমুদ মিঠু।
গুরুতর আহত অবস্থায় খলেদ মাহমুদ মিঠুকে পাশের গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে নেয়া ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৫৬ বছর। খালিদ মাহমুদ মিঠুর জন্ম ১৯৬০ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের ছাত্র ছিলেন তিনি।
শোকাবহ খবর শুনে খালিদ মাহমুদ মিঠুর ধানমন্ডির বাসায় আসেন দীর্ঘ কর্ম জীবনের সাথীরা ছাড়াও ভক্ত ও স্বজনরা।
মিডিয়া জগতের নেপথ্যের কারিগর খালিদ মাহমুদ মিঠু’র কর্মজীবন শুরু বাংলাদেশ টেলিভিশনে। তার পরিচালিত চলচ্চিত্রের নাম জোনাকির আলো ও গহীনে শব্দ। ‘গহীনে শব্দ’ সিনেমাটির জন্য সেরা পরিচালক হিসেবে জাতীয় পুরস্কারও পান খালিদ মাহমুদ মিঠু।
রোমানিয়ায় ব্রার্সভ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ছবি ‘জোনাকির আলো’ শ্রেষ্ঠ পরিচালক-এর পুরস্কার পায়। এর আগে মুম্বাই চলচ্চিত্র উৎসবে দর্শকদের ভোটে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার লাভ করে ছবিটি।
খালিদ মাহমুদ মিঠুর স্ত্রী বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী কনকচাঁপা চাকমা।
তার এমন অকাল মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করে চিত্রশিল্পী হাশেম খান বলেন, এই রাজধানীতে এমন বয়স্ক গাছগুলো চিহ্নিত করা দরকার। এবং সেই সাথে নাগরিকদের জীবন রক্ষার্থে সিটি কর্পোরেশনের উচিত এমন গাছ কেটে ফেলা।
নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, একটা শহর কতটা অনিরাপদ হতে পারে এ মৃত্যুই তার প্রমাণ।
খালিদ মাহমুদ ছিলেন চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রথম চিত্রগ্রাহক। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে চ্যানেল আই পরিবার।
আজ বাদ মাগরিক প্রথম নামাজে জানাযা হয় ধানমন্ডি ৪ নম্বর সড়কের ৩৬ নম্বর বাসার সামনে। এখন তার মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে।
নিহতের বড় ছেলে দেশে আসার পর ৯ মার্চ সকাল ৯টায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রথমে চারুকলা ইন্সটিটিউট ও পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার মরদেহ রাখা হবে।
বুধবার বাদ যোহর চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে সর্বশেষ নামাজে জানাযার পর বনানী কবরস্থানে বাবার কবরে তাকে দাফন করা হবে।






