রাশিয়া বিশ্বকাপের সময় গণহত্যার প্রতিবাদ করে উদযাপন করার খেসারত এখনো দিচ্ছেন সুইজারল্যান্ডের শাকিরি। নিজের ক্লাব লিভারপুলের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পরের ম্যাচ খেলতে সার্বিয়ায় যেতে পারছেন না তিনি। মঙ্গলবার সার্বিয়ান ক্লাব রেড স্টার বেলগ্রেডের মুখোমুখি হবে তার দল।
লিভারপুল বিবৃতিতে জানিয়েছে, যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্লাব এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শাকিরি জাতিগতভাবে আলবেনিয়ান। বাবা-মা বলকান যুদ্ধের সময় নিজেদের দেশ আলবেনিয়া ছেড়ে শরণার্থী হিসেবে সুইজারল্যান্ডে আশ্রয় নেয়। ১৯৯২ থেকে ৯৫ সাল পর্যন্ত চলা বলকান যুদ্ধে শক্তিশালী সার্বিয়ান সেনাবাহিনী নিরীহ আলেবনিয়দের নির্বিচারে হত্যা করে। বিশ্বকাপের এক ম্যাচে সেই সার্বিয়ার সাথেই খেলা ছিল সুইজারল্যান্ডের।
শাকিরি গোল করার পর দুই হাত ক্রস করে ঈগল পাখির মতো চিহ্ন দেখান। যেটি আলবেনিয়ান জাতীয় পতাকায় থাকে। দুই হাতের দুই বৃদ্ধ আঙুল দুটি ঈগল পাখির মাথাকে বোঝায়। অন্য আঙুলগুলো ডানা নির্দেশ করে। এই প্রতীক দিয়ে তিনি বুঝিয়েছেন, নির্বিচারে হত্যা করার পরও আমরা মাথা তুলে বেঁচে আছি। শুধু তাই নয়, ঈগল পাখির মতো উড়ে বেড়াচ্ছি বিশ্বমঞ্চে।
এমন উদযাপনের পর ফিফা থেকে শাকিরিকে জরিমানা করা হয়। সেই সঙ্গে সতর্কও করা হয়।
ওই উদযাপনের পর সার্বিয়ার সাধারণ মানুষ শাকিরির ওপর খেপে থাকতে পারে, এমন ধারণা থেকেই লিভারপুল তাকে সঙ্গী করছে না।
দলটির কোচ ক্লপ বলেন, ‘আমরা শুনেছি কী ধরণের প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারেন শাকিরি। এসবের ভেতর যেতে চাই না। খেলায় মন দিতে চাই।’








