গণতন্ত্র বিকশিত হলে গণমাধ্যমও বিকশিত হয় বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। দেশ, মানুষের কল্যাণে এবং গণতন্ত্র বিকাশে সংবাদ মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রোববার বিকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সাংবাদিক বজলুর রহমান স্মৃতি পদক প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।
ন্যায় ভিত্তিক শোষণমুক্ত সমাজের জন্য আজীবন কাজ করে গেছেন দৈনিক সংবাদের সম্পাদক বজলুর রহমান। তার সময়ে তিনি অন্য পেশায় যেতে পারতেন কিন্তু ভালোবেসে সাংবাদিকতায় এসেছিলেন বজলুর রহমান বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি বজলুর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ নামে একটি বিশেষ সংখ্যা সম্পাদনা করতেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যর স্বীকৃতির জন্য তিনি কাজ করেছেন।মুক্তিযুদ্ধ ,স্বাধীনতার বিরোধীদের বিরুদ্ধে তার কলম ছিলো সবসময় সচল। দেশের গণতন্ত্রের প্রতি এই কলম সৈনিকের অবস্থান সত্যিই অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।
দেশ, মানুষের কল্যাণে এবং গণতন্ত্র বিকাশে সংবাদ মাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, সম্পূর্ণ স্বাধীন থেকে সরকারের সমালোচনা করার জন্য গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। এতে সরকারে ভুল করার সম্ভাবনাও কম থাকে। তবে অবশ্যই নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশন করতে হবে।
উন্নয়নের জন্য সোনার বাংলা গড়তে সাদাকে সাদা বলতে সংবাদকর্মীদের অাহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন প্রয়োজনে আমারও সমালোচনা করবেন তবে তথ্য যেন ঠিক থাকে।গণমাধ্যমকে স্বাধীন করার লক্ষে সরকার গণমাধ্যম আইন প্রনয়ন করেছে। তবে আগের চেয়ে এখন সংবাদ মাধ্যমগুলো বেশি কর্পোরেট জগতে ঢুকে গেছে এতে তথ্যর বিভ্রাট ঘটছে কী না সেটা লক্ষ্য রাখা উচিত।
অনূষ্ঠানে অন্যানর মধ্যে জুরি বোর্ডের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বক্তব্যে বলেন , বজলুর রহমান সরল জীবন যাপনে, প্রজ্ঞায় ছিলেন সম্পাদকের রোল মডেল। তার কর্ম জীবন তাকে জীবনত্তোর জীবন দান করেছেন বলে মন্তব্য করেন ভিসি।
বজলুর রহমান পাকিস্তান আমল থেকেই নানা ভাবে সাংবাদিকতা অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১২ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০০৭ সালে সাংবাদিক বজলুর রহমানের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এবং সুহৃদদের সহযোগিতায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাংবাদিকতার জন্য প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার একজন করে সাংবাদিক ও নির্মাতাকে পুরস্কার দেয়ার জন্য বজলুর রহমান স্মৃতি পদক প্রবর্তণ করে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।। এবছর সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য পদক ভূষিত হন দৈনিক সংবাদের সিনিয়র রিপোর্টার ওয়াকিল আহমেদ হিরন এবং যমুনা টেলিভিশনের ৩৬০ ডিগ্রির আলাউদ্দিন আহমেদ।










