প্রযুক্তি দুনিয়ার আঁতুড় ঘর বলে খ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালি ঘুরে এসে বাংলাদেশের প্রযুক্তিখাতে নতুন নতুন সম্ভাবনা আসছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
সম্প্রতি তিনি সিলিকন ভ্যালিতে শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে মিলিত হন।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী মার্চের ৩১ তারিখ থেকে এপ্রিলের ২ তারিখ পর্যন্ত সিলিকন ভ্যালিতে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলে, ফেসবুক, গুগল, নুয়ান্স কমিউনিকেশন্স, পেপ্যাল-জুমসহ একাধিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলের কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন, এস শংকর শাস্ত্রীর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী পলকের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় ৩১ মার্চ। বৈঠকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ বার্কলে’র ইনোভেশন ফর ফিউচার হাব এ অংশীদারিত্বের আগ্রহ প্রকাশ করলে বার্কলে তাতে সম্মতি জানায়।
এছাড়াও, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং ইউসি বার্কলে– দু’পক্ষই গবেষণা ও উন্নয়ন, ডেটা এনালাইটিক্স ইত্যাদি খাতে ‘নলেজ পার্টনার’ হিসেবে কাজ করতে এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরে পারস্পরিক অংশীদার হতে আগ্রহ প্রকাশ করে।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল পরে গুগলের পাবলিক পলিসি’র সিনিয়র কাউন্সিল উইলসন এল হোয়াইটের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসে। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী গুগলের প্রতিনিধিদলের কাছে বাংলাদেশের তরুণদের একটি বড় প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরে জানান, বাংলাদেশী তরুণ-তরুণীরা প্রযুক্তি খাতে বিশেষত ডেভেলপার হিসেবে সুনামের সঙ্গে কাজ করলেও বাংলাদেশে গুগল মার্চেন্ট একাউন্ট চালু না থাকায় তারা তাদের আয় করা অর্থ স্থানান্তর করতে পারছে না।
তিনি এ সময় বাংলাদেশে গুগল মার্চেন্ট একাউন্ট চালুর আহবান জানান এবং গুগল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ও যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
বৈঠকে গুগলের সিনিয়র কাউন্সিলর উইলসন এল হোয়াইট প্রতিমন্ত্রীকে জানান, গুগল বাংলাদেশে গুগল লঞ্চপ্যাড ও গুগল ফর অন্ট্রাপ্রেনিওর কার্যক্রম চালু করতে আইসিটি ডিভিশনের সঙ্গে সহযোগী হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী।
উভয়পক্ষ বাংলাদেশী স্টার্ট-আপদের জন্য গুগলের স্টার্ট-আপ টুল্সগুলো বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে এবং সরকারের ইনোভেশন ডিজাইন এন্ড অন্ট্রাপ্রেনিওরশিপ একাডেমি (আইডিয়া) প্রকল্পে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা বিনিময়ে সম্মত হয়।
পরে গুগলে কর্মরত বাংলাদেশী গুগলারদের সঙ্গে পলক একান্ত আলাপচারিতায় মিলিত হন। সেসময় বাংলাদেশী গুগলাররা ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যক্রমের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। গুগলারদের মাতৃভূমির প্রতি তাদের অনুরক্তির জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান প্রতিমন্ত্রী।
এরপর প্রতিমন্ত্রী ফেসবুকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইমি আর্চিবং এর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। ফেসবুক ভাইস প্রেসিডেন্ট ইমি আর্চিবং বৈঠকে প্রতিমন্ত্রীকে জানান, ‘ফেসবুক এ্যাড বিলিং’ ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেনে তারা কাজ করছে। সেসময় এফ-কমার্স (ফেসবুক কমার্স), ডিজিটাল মার্কেটিং প্রমোশন ও আইডিয়া প্রকল্পে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে দু’পক্ষ মতৈক্যে পৌঁছায়।
এছাড়াও, ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশী জনপ্রতিনিধিদের একাউন্ট ভেরিফাই করতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং বাংলাদেশের সরকারি অফিসগুলোতে ফেসবুক ওয়ার্কস্পেস চালু, নির্বাচিত দেশীয় স্টার্ট-আপদের ফেসবুক ডেভেলর্পাস কনফারেন্সে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে এবং আগামী মে মাসে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘সোস্যাল মিডিয়া এক্সপো’-তে অংশীদার হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের ভাষা গবেষণা সহযোগী বহুজাতিক সফটওয়্যার উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান ‘নুয়ান্স কমিউনিকেশন্স’ এর প্র্রতিনিধি দলের সঙ্গেও আলাদা বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী পলক ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং, স্ক্রিন রিডিং, স্পিচ-টু-টেক্সট, টেক্সট-টু-স্পিচ, বাংলা করপাস নিয়ে কাজ করার আহবান জানালে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও সিইও পল রিচি জানান, নুয়ান্স কমিউনিকেশন্স আইসিটি ডিভিশনের সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রস্তাব সাদরে গ্রহণ করছে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে তারা কাজ করতে আগ্রহী।

অর্থ লেনদেনের অনলাইন প্লাটফর্ম পেপ্যাল-জুমের সঙ্গে আলাদা আরেকটি বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী পলক পেপ্যাল-জুমকে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম দ্রুত শুরুর আহবান জানালে পেপ্যাল-জুম শীঘ্রই বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু হবে বলে প্রতিমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে।
পেপ্যাল-জুমের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পেপ্যাল-জুম প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রতিষ্ঠানটির বিপণন ও বিজনেস ডেভেলপমেন্ট প্রধান জুলিয়ান কিং।
সফরকালে প্রতিমন্ত্রী পলক সিলিকন ভ্যালিভিত্তিক আমেরিকান ও প্রবাসী বাংলাদেশী শতাধিক উদ্যোক্তার সঙ্গে ‘ইনভেস্টর্স মিট’ মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। প্রতিমন্ত্রী পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে বাংলাদেশে প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ পরিবেশ এবং সরকারের দেয়া সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরেন। উদ্যোক্তারা সেসময় বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেন। মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অগমেডিক্স উদ্যোক্তা ইয়ান শাকিলও বক্তব্য রাখেন।
প্রতিমন্ত্রীর প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন: স্টার্ট-আপ বাংলাদেশ এর ইনভেস্টমেন্ট এডভাইজর টিনা জাবিন, স্টার্ট-আপ বাংলাদেশের চিফ স্ট্রাটেজি এডভাইজর জামিল আজহার ও আব্দুল বারী।
২ এপ্রিল প্রতিমন্ত্রী পলক ইয়াং গ্লোবাল লিডার এনুয়াল এলামনাই সামিটে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আর্জেন্টিনার উদ্দেশে যাত্রা করেন এবং ৬ এপ্রিল দেশে ফিরে আসেন।








