বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ও বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) অনুষ্ঠিত হবে আগামী সোমবার। এজিএমের আলোচ্যসূচির মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে গঠনতন্ত্র সংশোধন ইস্যুটি। এজিএমে আলোচনার ভিত্তিতে ‘সংশোধিত গঠনতন্ত্র-২০১৭’ ইজিএমে পাস করা হবে বলে জানিয়েছে বিসিবির একটি সূত্র।
আগামী ১৩ অক্টোবর শেষ হয়ে যাবে নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বাধীন বিসিবির বর্তমান কমিটির মেয়াদ। চার বছরের মেয়াদে এজিএম ও ইজিএম না করায় পূর্ববর্তী বছরসমূহের কার্যক্রম মূল্যায়ন এবং তার অনুমোদন দেয়া হবে। পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদিত অর্থবছর সমূহের আয়-ব্যয় সংক্রান্ত বিষয় নিরীক্ষণ ও অনুমোদন এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন করা হবে ইজিএমে।
এছাড়া নিমবাস কমিউনিকেশনের সঙ্গে টিভি স্বত্ব নিয়ে বিসিবির ২৭ মিলিয়ন ডলারের বিরোধের নিষ্পত্তি, বিসিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পারিশ্রমিক নির্ধারণ এবং সাধারণ পরিষদ কর্তৃক উত্থাপিত কোন জরুরি বিষয়ের নিষ্পত্তিও সভায় গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে।
এজিএম ও ইজিএমে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে ১৭০ জন কাউন্সিলরের। সোমবার সকাল ১১টায় রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে শুরু হওয়া এজিএমের শেষে ১০ মিনিট বিরতি দিয়ে শুরু হবে ইজিএম।
গত ২৬ জুলাই আদালতের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই এজিএম, ইজিএমের তারিখ ঘোষণা করে বিসিবি। তবে ২ অক্টোবরে ডাকা এই সভার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিসিবির সাবেক পরিচালক স্থপতি মোবাশ্বের হোসেনের রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়। শুনানি শেষে বর্তমান কমিটিকে কাজ চালিয়ে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। তবে এজিএম ও ইজিএম করতে কোনও আইনগত বাধা নেই বলে জানায় বিসিবি ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের আইনজীবীরা।
২০১২ সালের ১ মার্চ গঠনতন্ত্র সংশোধন করেছিল বিসিবি। সেটি অনুমোদন না দিয়ে কিছু সংশোধনী এনে ওই বছরের নভেম্বরে নতুন গঠনতন্ত্র তৈরি করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এরপর ডিসেম্বরে এনএসসির সংশোধিত গঠনতন্ত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন বিসিবির নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য প্রয়াত ইউসুফ জামিল বাবু ও মোবাশ্বের হোসেন। বিষয়টি আপিল বিভাগ পর্যন্ত গড়ায় এবং সর্বোচ্চ আদালত গঠনতন্ত্র সংশোধনের ক্ষমতা বিসিবির হাতে রেখে রায় দেন। তারই জেরে সোমবার এজিএম ও ইজিএমের মাধ্যমে গঠনতন্ত্র সংশোধন করতে যাচ্ছে বিসিবি।







