১৫ আগষ্টের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের দেশে ফিরে আসার পরের বিভিন্ন স্মৃতি জাতির সামনে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আরও জানিয়েছেন দেশে ফেরার আগে ও পরে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নানা কর্মকাণ্ড ও তা সামাল দেওয়ার অভিজ্ঞতা।
মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ১৫ আগস্টের শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৫ই আগস্টের হত্যাকান্ড এবং পরবর্তী সময়ে নিজের শোক, কষ্ট আর দুর্ভোগের বর্ণনা দিয়ে বলেন, সব কষ্ট বুকে চেপে রেখেছি। কিন্তু, কোনও দিন কারও কাছে নত হইনি। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে কাজ করে যাবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৮১ সালে যখন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত হই তখন আমি দিল্লিতে ছিলাম। আমার অবর্তমানেই আমাকে সভানেত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। তারপর ১৭ই মে আমি দেশে আসি।
সেদিনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, লাখো মানুষ আমার জন্য বৃষ্টিতে ভিজে বিমানবন্দরে গেছেন। লাখো মানুষের মধ্যে আমি আমার হারানো মা-বাবা ভাই বোন কাউকে পাইনি। কিন্তু, বাংলার মানুষের ভালবাসা, সমর্থন আমি পেয়েছি। আওয়ামী লীগের অগণিত কর্মীর সহযোগিতা পেয়েছি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে যেতে চাইলাম। মিলাদ পড়ব। জিয়াউর রহমান আমাকে ঢুকতে দেয়নি। আমার জন্য ৩২ নম্বর ছিল নিষিদ্ধ। আমরা বাইরে দাঁড়িয়ে মিলাদ পড়ে চলে এলাম।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান এখানে ওখানে বাড়ি দিতে চেয়েছে। কিন্তু, খুনির কাছ থেকে কিছু নেয়ার রুচি হয়নি আমার। জিয়াউর রহমান দিল্লিতে ও লন্ডনে আমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছেন। কিন্তু, আমি বলেছি খুনির সঙ্গে আমার কোনও সাক্ষাত হবে না।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের দায়িত্বে থাকব এ বিষয়ে কখনও ভাবিনি। ভেবেছি, দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। হত্যার বিচার করতে হবে।
১৫ আগষ্টে খালেদা জিয়ার কথিত জন্মদিন পালন না করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছেলে কোকোর জন্মদিন পালন করতে পারবে না বলেই বিএনপি নেত্রী জন্মদিন পালন করেননি। অনেকে তার ওই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদারতা হিসাবে দেখাচ্ছে, আসল ঘটনা হচ্ছে কোকোর জন্মদিন (১২ আগস্ট) যেহেতু করতে পারবে না, তাই নিজেরটা করবে না। এটা হলো বাস্তব কথা।
ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী।
সভায় অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, উপদেষ্টমণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক, মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমুখ।








