জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলার অন্য চার অাসামী– বিএনপির সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাছাড়াও আত্মসাত করা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা খালেদা জিয়া বাদে অন্য অাসামীদের জরিমানা করেছেন আদালত। এই রায় নিয়ে নানা আগ্রহ ও উৎকণ্ঠার শেষ ছিল না জনমনে। রায় ঘোষণার দিনে রাজধানীতে নেয়া হয়েছিল কয়েকস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রায় ঘোষণার পরে বড় ধরণের কোনো নাশকতা ও সহিংসতার খবর পাওয়া না গেলেও বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি, আওয়ামী লীগ, দুদক, মন্ত্রীরাসহ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্তব্য করেছেন। খালেদা জিয়ার নির্দেশে রায়ের পরে কোনো ধরণের সহিংস ও জনবিরোধী কর্মসূচি দেয়নি বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব। আর এই রায় স্বাধীন আদালতের একটি নিয়মিত কার্যক্রম, তাই রায় নিয়ে সন্তুষ্ট বা অসন্তুষ্ট হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ মুখপাত্র। আইনমন্ত্রীসহ বিভিন্ন মন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বিএনপির নানা অপকর্মের সাজা হওয়াকে স্বাভাবিক বলে তার নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেছেন। এই সাজা হওয়াকে আইনের স্বাভাবিক কার্যক্রম উল্লেখ করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান। বরিশালের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণে বলেন, এতিমের টাকা চুরি করে খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান ধরা পড়েছে। আজ রায় হয়েছে, লজ্জা থাকলে তারা আর কোনদিন দুর্নীতি করবে না। রায় ঘোষণার আগে যেমন ‘কী হবে?’ রব উঠেছিল চারদিকে, এখন ‘রায়ের পরে কী হবে’ রব উঠতে শুরু করেছে। খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন কি, পারবেন না? বিএনপির নেতৃত্বে এখন কে? এসব নানা প্রশ্ন চারদিকে। বিষয়গুলো হয়তো খুব শিগগিরই পরিষ্কার হবে, তবে স্বস্তির বিষয় রাজধানীতে কোনো ধরণের সহিংস পরিবেশ তৈরি না হওয়া। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও ধীরে ধীরে সব স্বাভাবিক হবে বলে আমাদের আশা। দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ স্বাভাবিক থাকুক, এই আমাদের প্রত্যাশা।









