চিকিৎসার জন্য দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি চাইলে বিএনপি নেতাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন: সংলাপ এবং আন্দোলন একসঙ্গে চলতে পারে না। তফসিল পেছানো না পেছানো নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত।
নির্বাচন কমিশনে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী তফসিল পেছানোর আবেদন জানিয়ে চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সীমিত পরিসরে আবারো সংলাপের আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেয়া প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন: ‘ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপ ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে। সংলাপে অংশগ্রহণ করা ঐক্যফ্রন্ট নেতারা স্বাধীনভাবে তাদের বক্তব্য রেখেছেন। আমাদের পক্ষ থেকে কোনোরকম ইন্টারফেয়ার করা হয়নি। এমনকি বক্তব্য সংক্ষেপ করতেও বলা হয়নি।
ছোট পরিসরে আবারও আলোচনার সুযোগ থাকলে সেটিকে কোনভাবেই ৭ নভেম্বরের পর নিয়ে যেতে চায় না জানিয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন: ‘স্বল্প পরিসরে আলোচনা আর বড় ডায়লগ এক বিষয় নয়। এর মধ্যে আমরা একটা সুযোগ করে নিয়ে তাদের সঙ্গে হয়তো বসতে পারবো। এ বিষয়ে আমরা আমি নেত্রীর সঙ্গে কথা বলব। তবে আমরা ৭ তারিখের পরে যেতে চাইছি না ‘
কারণ হিসেবে ওই সময়ে নির্বাচনী কর্মযজ্ঞ শুরু হয়ে যাবে বলে সাংবাদিকদের জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।
তিনি বলেন: ‘‘বাংলাদেশে দু’শোর কাছাকাছি রাজনৈতিক দল রয়েছে। এর মধ্যে নিবন্ধনধারী অনেকেই। আজ ১৪ দল কাল জাতীয় পার্টির সঙ্গে আমরা বসবো। এরপর আমরা দিনে দুটি করে সংলাপ করতে চাই। দুপুরে এক সেশন শেষ করে রাতে এক সেশন অথবা সন্ধ্যার পরে দুই সেশনে আমরা বসতে চাই। এভাবে আমরা সাজাতে চাচ্ছি।’
সংলাপে একাদশ জাতীয় নিবাচন নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সঙ্গে মতপার্থক্য নিরসনে কতটুকু আশাবাদী আওয়ামী লীগ জানতে চাইলে তিনি বলেন: ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সরকার প্রধানের এই প্রথম রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ। সংলাপ হচ্ছে, কিছুতো হয়েছে।’
নির্বাচনের সময় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের যে দাবি ঐক্যফ্রন্ট ও যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে করা হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে কাদের বলেন: ‘আচরণবিধিতে যে বিষয়গুলো আছে, সেগুলো আমরা মেনে চলব। তাহলে সমস্যা কোথায়? এটাই তো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলে মন্তব্য করেন তিনি।
‘সবাই সবার মত সভা-সমাবেশ করবে, নির্বাচন কমিশন যেভাবে রুলস এন্ড রেগুলেশন্স সেট করে দেবেন সেভাবেই সবাই সমাবেশ করবে। সবারই অধিকার থাকবে সভা-সমাবেশ করার। সভা-সমাবেশ করার পরিবেশ এখনো আছে। তারা যেখানেই সভা-সমাবেশ করতে চাইবে, অনুমতিতে কোনো বাধা আসবে বলে আমি মনে করি না’, বলেন ওবায়দুল কাদের।
নির্বাচনে বিদেশি পর্যোবেক্ষক সংক্রান্ত দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন: ‘বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ব্যাপার বিষয়টা ঐক্যফ্রন্ট ও যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিষয়গুলো চলে যাবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তারা ক্লোজলি পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।’







