জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই দাবি করে নিঃশর্তে তার সম্মানজনক খালাসের আবেদন করেছেন।
এসময় তিনি আদালতের উদ্দেশে বলেন, এ আদালতে আমরা অবরুদ্ধ একটি অবস্থায় মামলা পরিচালনা করেছি। আপনার কষ্ট হয়েছে। এখানে কোন পরিবেশ নেই। আইনজীবীদের জন্য কোন ওয়াশরুম নেই, নামাজ ঘর নেই, বসার জায়গা নেই। এখানে আদালতের কোন সুযোগ সুবিধা নেই। এটা পাবলিক কোর্ট হতে পারে না।
‘এখানে কোন গাড়ি ঢুকতে দেয়া হয় না। পাবলিককে প্রবেশ করতে দেয়া হয়না। সুপ্রিম কোর্টে আমরা সর্বাধিক ৫ ফিট দূরে থেকে বক্তব্য উপস্থাপন করে থাকি। এখানে অনেক দূরত্ব, যোগাযোগে সমস্যা, কথা বলতে কষ্ট হয়’, বলেন ব্যারিস্টার মওদুদ।
তিনি বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের মামলা পরিচালনার জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল। এ সমস্ত স্বাধীন মামলাগুলো এখানে আনা দূরভিসন্ধিমূলক। এখানে আইনজীবীদের আসতেও বাধা দেয়া হয়। এটি একটি নির্যাতনমূলক ক্যামেরা ট্রায়াল।
মওদুদ বলেন, এ মামলা প্রথম পর্যায়েই খারিজ হয়ে যাওয়ার কথা। ন্যায়সঙ্গতভাবে মামলা পরিচালিত হলে তাই হতো। আমরা আশা করছি এ মামলায় খালেদা জিয়াকে সম্মানজনকভাবে খালাস দিবেন।
এর আগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে আদালতে উপস্থিত হন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। যুক্তিতর্ক শুরু হয় পৌনে ১২ টায়।
খালেদা জিয়ার পক্ষে এর আগে অ্যাডভোকেট আব্দুর রেজ্জাক খান, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার এজে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার যুক্তি উপস্থাপন করেছেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলা দু’টির প্রধান আসামি খালেদা জিয়া। অরফানেজ মামলায় খালেদা জিয়াসহ আসামি মোট ছয়জন। অন্য পাঁচ আসামি হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।
আসামিদের মধ্যে ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক। বাকিরা জামিনে আছেন।
২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুদক। এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়।








