বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির দুই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেছে আদালত।
দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে বৃহস্পতিবার বকশিবাজারে কারা অধিদপ্তর প্যারেড মাঠে অবস্থিত ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে হাজির হন বেগম খালেদা জিয়া।
আদালতে বাদীর সাক্ষ্য দেওয়ার দিন আসামীপক্ষ উপস্থিত ছিলো না উল্লেখ করে বাদীকে জেরা করতে প্রথমে রাজিই হননি আসামিপক্ষ।
পরে অবশ্য মামলার বাদীকে ১৫ মিনিট আংশিকভাবে জেরা করে আসামিপক্ষের আইনজীবী জানান, তার মামলার পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নেই। তাই আবারো পরিপূর্ণ জেরার জন্য সময় প্রার্থনা করেন তিনি।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলা দু’টির প্রধান আসামি খালেদা জিয়া।
আদালত মুলতবির পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সংবাদিকদের বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে যে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে, তার বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। তাই এই মামলার কার্যক্রমে কোনো বাধা নেই। আদালতও এই মামলার কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী বলেন, আমরা মামলার কার্যক্রম চলার সময় জেরা করেছি। আমাদের একটিই বক্তব্য জিয়া চ্যরিটেবল ট্রাস্টের রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। যদি ট্রাস্ট থাকাকালে কোনো আইন লঙ্ঘন করা হয়ে থাকে; তাহলে এর জন্য ফৌজদারি মামলা হবে না। তা কোনো অবস্থাতেই দুর্নীতি দমন আইনের আওতায় আসে না।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি গুলশানের বাসা থেকে আদালতের উদ্দেশে রওয়ানা দেন। সকাল সাড়ে দশটায় আদালতের বিচারিক কার্যকম শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পরই সেখানে পৌঁছান খালেদা জিয়া।
খালেদার জিয়ার আগমন উপলক্ষে আদালতের আশেপাশে বিএনপি নেতাকর্মীরা জড়ো হয়েছিলো। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোড়দার করা হয়েছিলো।
মামলার বাদী হারুন-অর-রশিদ গত ২৫ মে পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন আদালতে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তার সাক্ষ্য নেওয়ার দিনগুলোতে খালেদা জিয়া অনুপস্থিত থাকায় এ সাক্ষ্যগ্রহণ আইনানুগ হয়নি উল্লেখ করে হাইকোর্টে তা বাতিল চেয়ে রিট আবেদন জানিয়েছিলেন খালেদার আইনজীবীরা।
২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুদক। এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়।
অন্যদিকে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা দায়ের করা হয়। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়।
দুই মামলারই বাদী হলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ খান।






