বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে ঈদের দিনে পরিবারের খাবার দিতে না দেওয়াকে ফোরাত নদীর পাড়ে ‘কারবালা ট্র্যাজেডি’র সঙ্গে তুলনা করে সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, কারবালায় এজিদ কর্তৃক ফোরাত নদীর পাড়ে অবরোধের ন্যায় এ সরকার বেগম জিয়ার খাবার অবরোধ করে যে ঘৃণ্য ও অমানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন. তা শুধু মনুষত্বহীনতায় নয় অবৈধ ক্ষমতার অনমনীয় হিংস্রতারও একটি ভয়াবহ রুপ। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, অনেক দেরিতে প্রায় আড়াই ঘন্টা কারাফটকের বাহিরে খালেদা জিয়ার আত্মীয়-স্বজনদের অপেক্ষা করিয়ে, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দেখা করতে দিলেও বাসা থেকে সঙ্গে আনা রান্না করা খাবার ঢুকতে দেয়া হয়নি। সকাল থেকে না খেয়ে অভূক্ত অবস্থায় তিনি অপেক্ষা করছিলেন স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে আহার করবেন, অনেক দিন পর প্রিয় নাতনিকে সাথে নিয়ে খাবেন। কিন্তু কারাকর্তৃপক্ষ সরকারকে খুশি করতেই খাবার নিতে দেয়নি।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, অভুক্ত বেগম জিয়া বুকফাটা হাহাকারে নাতনি ও আত্মীয়দের সাথে খাবার খেতে পারলেন না। স্বজনদের সাথে নিয়ে একসঙ্গে খাওয়ার যে আশায় তিনি সারাদিন অভূক্ত থাকলেন, সে আশা তার পূরণ হলো না। বাবাহারা নাতনীও এক বিশাল শুন্যতা নিয়ে দাদীর ওপর সরকারী নির্দয়তার বিভৎসরূপ দেখে বুকফাটা কান্না নিয়ে ফিরে আসে।
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ওপর অমানবিকতার দৃশ্য দেখে আত্মীয়-স্বজনরা কাঁদতে কাঁদতে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন।
সরকারকে খুশি করতেই দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের ঈদের দিনও কারাগারে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করতে দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন রিজভী।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের স্বৈরতন্ত্র বিবর্তীত হয়ে নাৎসীবাদ অতিক্রম করে এখন ভয়ংকর হানাদারি শক্তিতে আত্মপ্রকাশ করেছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে পর্যুদস্তু করতে অবৈধ সরকার যে দমননীতির উত্থান ঘটিয়েছে তা নজীরবিহীন ও হিংসাশ্রয়ী। প্রধানমন্ত্রী যেন ব্যক্তিগত জিঘাংসা চরিতার্থ করতেই তাদের ওপর রাষ্ট্রযন্ত্রকে যথেচ্ছ ব্যবহার করে যাচ্ছেন। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের মন্ত্রীরা প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ খালেদা জিয়া জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জড়িয়ে নানা বিষয়ে উদ্ভট কথা বলে যাচ্ছেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের ইচ্ছাতেই রাজনৈতিক বিরোধীদের মামলায় জড়ানো হয়। আইন বিচার সবই তো সরকারের হাতের মুঠোয়, সুতরাং বেআইনী সরকার তার ইচ্ছা পূরণের জন্যই নিজের মতো করে আইন ও আদালতকে ব্যবহার করে যাচ্ছে। নিম্ম আদালতে বিচারের রায়েও থাকে সরকারী প্রভাব। বাংলাদেশে ন্যায়-বিচারকে গুম করে দেয়া হয়েছে, বাংলাদেশে জোরেশোরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে হাসিনা-বিচার। গণতন্ত্রকে অদৃশ্য করে বিরোধী দল শুন্য করতে আদালতকে ব্যবহারের জন্য এর ওপর সরকারী বন্দুক তাক করে আছে। সরকারের সমালোচক, ভিন্নমত পোষণকারী ও বিরোধী দলকে দমানোর যন্ত্র হিসেবে নিম্ম আদালতকে ব্যবহার করে হচ্ছে। সুতরাং বিরোধীদের ন্যায় বিচার পাওয়া এখন সোনার হরিণ পাওয়ার মতোই দুঃসাধ্য।
এসময় নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেবকে সুষ্টভাবে বলে রাখি, ৫ জানুয়ারীর মতো আবারো একতরফা নির্বাচন জনগণ প্রতিহত করবেই। শূন্য মাঠে আর খেলতে দেওয়া হবে না। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে, বেগম জিয়ার নেতৃত্বেই বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। একটা জাতি রক্ত দিয়ে প্রাণ দিয়ে যে গণতন্ত্রের বিজয় পতাকা উড্ডীন করেছিলো তা আজ একতরফা বাকশালী শাসনে ভূতলে শায়ীত। সেজন্য আর একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে একদলীয় ব্যবস্থা চলতে দেয়া হবে না।








